বাংলাদেশে ভারতীয় তিন টিভি চ্যানেল স্টার জলসা, স্টার প্লাস ও জি বাংলার সম্প্রচার বন্ধের কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আদেশ প্রাপ্তির চার সপ্তাহের মধ্যে তথ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের আইজি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক, ডিজি জাদু ব্রডব্যান্ড লিমিটেডের চেয়ারম্যানকে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ রবিবার এই আদেশ দেন।
বিদেশি এই তিনটি টিভি চ্যানেলের বাংলাদেশে সম্প্রচার নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন আইনজীবী শাহীন আরা লাইলী। আবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল ভারতে সম্প্রচার করা হয় না। কিন্তু পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল এ দেশে অবাধে সম্প্রচারিত হচ্ছে। ফলে ভিনদেশি এ সংস্কৃতির প্রভাবে দেশের যুবসমাজ আজ ধ্বংসের সম্মুখীন। আবেদনে আরো বলা হয়— স্টার জলসায় ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়ালে ‘পাখি’ চরিত্রে রূপদানকারী অভিনেত্রীর মতো পোশাক কেনার বায়না ধরেছিল আমাদের দেশের অনেক কিশোরী। কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় ঈদুল ফিতরে এই পোশাক কিনে দিতে পারেনি অনেকের পরিবার। ফলে অভিমানে তিনজন কিশোরী আত্মহননের পথ বেছে নেয় মর্মে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক। অতএব বাঙালি সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে এবং দেশের চ্যানেলগুলো বাঁচিয়ে রাখতে ভারতীয় চ্যানেল সম্প্রচারের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন। রিটের পক্ষে আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু। শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করে।
উল্লেখ্য, গত আগষ্ট মাসে এ ধরনের একটি রিট করেন সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী। তখন হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনটি উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়। এখন নতুন করে রিট আবেদনটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভুইয়া।