হাজার কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগে দেশের অন্যতম শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর রবির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানের নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুনির্দিষ্ট চারটি অভিযোগ আমলে নিয়ে দুদক এ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি এক অফিস আদেশে ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার, সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা এবং তরঙ্গ ফির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ওই আদেশে দুদকের একজন সহকারী পরিচালককে বিষয়টি অনুসন্ধান করে অতি দ্রুত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা গেছে, মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানি রবি আজিয়াটা লিমিটেড আরও চারটি কোম্পানি খুলে নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন কাজ করছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বড় কোম্পানিটি হল ‘ই-ডটকো’। এর মালিকানা রবির মূল কোম্পানি মালয়েশিয়ার আজিয়াটা গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিরা। বর্তমানে রবি এই খাত থেকে সবচেয়ে বেশি আয় করছে আর সরকারকে প্রতি মাসে শত কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। এ ব্যাপারে এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, ‘ই-ডটকোর’ আয় করা টাকা অবৈধভাবে বিদেশ পাচার হয়ে যাচ্ছে। কারণ ই-ডটকোর বেশিরভাগ শেয়ারহোল্ডারই বিদেশী।
দুদক সূত্র আরও জানায়, সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে ৬৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে রবির বিরুদ্ধে। ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১১-এর জুন পর্যন্তু ৫২ লাখ ৬১ হাজার ৫৪১টি সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন গ্রাহকের কাছে সিম বিক্রি করে এ অর্থ ফাঁকি দেয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ অনুসন্ধান চালিয়ে প্রাথমিকভাবে এ দুর্নীতি খোঁজে পায়। এ জন্য তারা ফাঁকি দেয়া অর্থ জমা দিতে রবিকে চিঠি দিয়ে তাগিদও দিয়েছে বেশ কয়েকবার। এনবিআরের কয়েক দফা চিঠি চালাচালির পরও টাকা পরিশোধ করেনি তারা। এ বিষয়ে এনবিআর একটি আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেয়। তাতে দেখা যায়, গত বছরের প্রথম দিকে এনবিআরের বৃহত্ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) ৬৫৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা কর ফাঁকির অভিযোগে রবিকে কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়। যৌক্তিক কারণ ব্যখ্যা করতে ব্যর্থ হলে সরকারি কোষাগারে এ অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশও দেয়া হয় ওই নোটিশে। পরবর্তীতে তা আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
এদিকে রবির বিরুদ্ধে বেশি বিনিয়োগ করে বিনিয়োগ বোর্ডকে কম দেখিয়ে কয়েক শতকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও রয়েছে। এরবাইরে কল সেন্টার প্রভাইডার জেনেক্স ইনফোসিসের মাধ্যমে অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার অভিযোগ, মিথ্যা ঘোষণা এবং আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ। দুদক এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েই অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
২০১০ সালের ২৮ মার্চ ‘রবি’ ব্র্যান্ড হিসেবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। মালয়েশিয়াভিত্তিক বহুজাতিক কোম্পানি আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) রবির ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক। বাকি ৩০ শতাংশের মালিক ছিল জাপানের ডোকোমো।
সমপ্রতি আজিয়াটা ডোকোমোর কাছ থেকেও ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে। বর্তমানে রবির পুরো মালিকানা মালয়েশিয়ার আজিয়াটার হাতে। এর আগে ১৯৯৭ সালে টেলিকম মালয়েশিয়া (টিএম) ইন্টারন্যাশনাল ও বাংলাদেশের এ কে খান অ্যান্ড কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ‘একটেল’ নামে কোম্পানির যাত্রা শুরু হয়।