সেই যন্ত্রণা ভোলেননি টেলর

 
২০০৫ সালের ১০ জানুয়ারি; চট্টগ্রাম এম এ আজিজ স্টেডিয়াম।
পঞ্চম দিন সকালে হাতে ৭ উইকেট নিয়ে সারাদিন কাটিয়ে দেওয়ার লক্ষে ব্যাট করতে নেমেছে জিম্বাবুয়ে। হ্যামিলটন মাসাকাদজার সঙ্গে তার জুটি বাংলাদেশী বোলারদের মনে একটু হলেও আতঙ্ক তৈরী করছিল। কিন্তু আবার মঞ্চে এলেন এনামুল হক জুনিয়র। এলবিডব্লু করে ফেরালেন ব্রেন্ডন টেলরকে। আর টেলরের এই আউটের ভেতর দিয়েই কার্যত বাংলাদেশ নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট জয়ের উল্লাসটা শুরু করে দিতে পারলো।
নয় বছর পর আবার বাংলাদেশে টেস্ট সফরে এসেছে জিম্বাবুয়ে। এর মধ্যে দুনিয়ার অনেক কিছু বদলে গেছে। সেদিনের বাংলাদেশ অধিনায়ক হাবিবুল বাশার অবসর নিয়ে নির্বাচকও হয়ে গেছেন। পৃথিবীর প্রায় সব ক্রিকেট দলের খোলনলচে বদলে গেছে। জিম্বাবুয়ে টেস্ট ক্রিকেটে স্বেচ্ছানির্বাসন নিয়ে আবার ফিরেও এসেছে। কিন্তু এখনও সেই পরাজয়ের স্মৃতি নিয়ে দলে আছেন ব্রেন্ডন টেলর।
শুধু দলে আছেন, তাই নয়; নয় বছর পর জিম্বাবুয়ে আবার যখন বাংলাদেশে টেস্ট সফরে এলো, টেলর তখন অধিনায়ক। গতকাল হোটেল লবিতে দাড়িয়ে টেলর বলছিলেন, দুনিয়ায় এতো ওলোট পালোট হয়ে গেলেও সেই পরাজয়ের স্মৃতি তিনি ভোলেননি, ‘খুব বেদনার একটা স্মৃতি, মেনে নেওয়া কঠিন। প্রথম টেস্টে চট্টগ্রামে ওই হারটা আমার ভালোই মনে আছে। আমার মনে হয়, এনামুল আসলেই অসাধারণ বল করেছিল। ও আমাদের ব্যাটিংটাই কঠিন করে দিয়েছিল। ঢাকায় অবশ্য আমরা বেশ ভালোভাবে ফিরে এসেছিলাম।’
টেলর মনে করেন, সেই বাংলাদেশের সোনালী খেলোয়াড়রা কালক্রমে সরে গেলেও বাংলাদেশ আরও প্রতিভাধর সব তরুনদের নিয়ে আরও শক্তিশালী দল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের এই শক্তি মেনে নিলেও নিজের দল নিয়ে অবশ্য আশাবাদী জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক, ‘এই সময়ে বাংলাদেশ অসাধারণ কিছু খেলোয়াড়কে হারিয়েছে। আবার বিপরীতে চোখ ধাঁধাঁনো কিছু তরুন খেলোয়াড় উঠে এসেছে। এখন বাংলাদেশ বড় প্রতিপক্ষ। হ্যা, আমাদের দলেও কিছু অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে, যারা আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলেছে। ফলে আমি ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী।’
বাংলাদেশকে বারবার সমীহ জানাতে টেলর কখনোই ভুল করেন না। গতকালও দফায় দফায় বাংলাদেশকে এগিয়ে রেখেও নিজেদের টেস্ট জয়ের লক্ষটা পরিষ্কার করে দিলেন। দীর্ঘকাল ধরে ঘরের বাইরে টেস্ট না জেতা জিম্বাবুয়েকে সেই স্বাদটা দিতে চান টেলর, ‘আমাদের লক্ষ পরিষ্কার—ঘরের বাইরে ম্যাচ জেতা। আমরা নিকট অতীতে এটা করতে পারিনি আমাদের সামনে এখন এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। আমরা খুব ভালো করেই জানি, বাংলাদেশ কতো বড় হুমকি। ওদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় আছে। তবে চ্যালেঞ্জটা নিতে আমরা মুখিয়ে আছি। সামনে কী আছে, আমরা দেখতে চাই।’
এই টেস্ট সিরিজ শেষে ওয়ানডে সিরিজটা দু দলের জন্যই বিশ্বকাপের আগে দারুন একটা প্রস্তুতি হতে পারে। কিন্তু টেলর বলছেন, প্রস্তুতি ভাবার মতো অবস্থায় তারা নেই। তারা এই সিরিজটা নিয়েই ভাবছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপ নিয়ে এখনই ভাবছি না। আগে দেখি, এই সিরিজে কী করতে পারি। তারপর বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবা যাবে। আপাতত, আমাদের দু দলের জন্যই এই সিরিজটা নিজেই অনেক গুরুত্বপূর্ন একটা ব্যাপার।’
আর সেই গুরুত্বপূর্ন সিরিজে জিম্বাবুয়ের কিছু করাটা যে কঠিন হবে, সেটা মানছেন টেলর। তবে অন্তত টেস্টে কিছু বিনোদন উপহার দিতে তারা প্রস্তুত বলেই দাবি করছেন, ‘আগে কী হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা বেশী চিন্তিত নই। বাংলাদেশ ঘরের মাটিতে, বিশেষ করে ওয়ানডেতে কতোটা শক্তিশালী দল, সেটা আমরা জানি। ফলে ওয়ানডের আগে টেস্টে একটু চাপ তৈরী করার চেষ্টা করবো আমরা। আশা করি, অন্তত খেলাগুলো আনন্দদায়ক হবে।’