প্রকল্প বাস্তবায়নে মনিটরিং জোরদার করুন :প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মনিটরিং আরো জোরদার করতে মন্ত্রী ও সচিবদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সরকারি চাকরিতে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণের তাগিদ দেন। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে গত অর্থ বছরে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সার্বিক কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা এ রিপোর্টে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৯টি লাভজনক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। আর লোকসানে রয়েছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সামরিক সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাব অনুমোদন লাভ করেছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কার্যাবলি-সম্পর্কিত বার্ষিক প্রতিবেদন ও সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা এ প্রতিবেদন ও সুপারিশ গ্রহণ এবং সন্তোষ প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে মাথাপিছু আয় ছিল এক হাজার ৪৪ ডলার। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে তা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ১৯০ ডলার। একইভাবে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। রাজস্ব আয় ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৫০৮ বিলিয়ন। গত অর্থ বছরে বিনিময় হার স্থিতিশীল ছিল। মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, গত অর্থ বছরে ২৪২টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ২৩৯টি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। গত অর্থ বছরে এডিপি ব্যবহারের হার ছিল ৯৩ দশমিক ১১ ভাগ। এ সময় ব্যয় হয় ৫৯ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কর্মসূচি ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষি ও খাদ্য উত্পাদন বেড়েছে। গত জুন পর্যন্ত মোবাইল ফোন গ্রাহকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬২ লাখ। একই সময় পর্যন্ত ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ছিল তিন কোটি ৮৯ লাখ। তিনি বলেন, গত অর্থ বছরে বিদ্যুতের চাহিদা ও উত্পাদন উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় বিদ্যুতের উত্পাদনের পরিমাণ বেড়েছে ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। একই অর্থ বছরে নতুন আটটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তি হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় সরকারি চাকরিতে পদ সৃষ্টি ও নিয়োগ-প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পদের আবশ্যিকতা ও প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ নিশ্চিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে বেশ কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে কুয়েতের সাথে উল্লিখিত চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। এ চুক্তির আওতায় মিলিটারি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, মিলিটারি প্রযুক্তি, মিলিটারি ইতিহাস, মিউজিয়াম, আর্কাইভ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে সামরিক, লজিস্টিক, অনুশীলনের জন্য সামরিক পর্যবেক্ষক বিনিময়, চোরাচালান ও মাদকদ্রব্য বিরোধী কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞ সাংস্কৃতিক কর্মী বিনিময়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং জাহাজ নির্মাণ শিল্পে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে (সামরিক ও বেসামরিক) সহযোগিতা এ বিষয়গুলো থাকবে।
সূত্র জানায়, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিএ) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় মন্ত্রিসভা তাদের অভিনন্দন জানায়। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে এক সাথে সিপিএ এবং আইপিইউ নির্বাচিত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। আগামী ২২ অক্টোবর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সাবের হোসেন চৌধুরীর সংবর্ধনা দেয়ার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।