‘নাটোরের দুর্ঘটনায় বেপরোয়া গতি দায়ী’

 
দুই গাড়ির চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। চালকরা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল। এছাড়া দুই গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। ফলে তারা দুর্ঘটনার পূর্ব মুহূর্তে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। সোমবার নাটোরের বরাইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা প্রাথমিক তদন্ত করে এই মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. তানভীর হাসান।
মঙ্গলবার ইত্তেফাকের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, যে স্থানটি দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানকার রাস্তা ছিল মহাসড়কের তুলনায় প্রশস্ত। আশেপাশে কোন বাজার বা বসতিও ছিল না। পথচারী ও অন্যান্য মোটরবিহীন যানবাহন চলাচলের জন্য এই মহাসড়কে আলাদা সাবওয়ে রয়েছে। এ কারণে এই দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের জন্য বেপরোয়া গতি দায়ী। চালকদের অসতর্কতা ও অজ্ঞতা আছে। বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে এটি প্রধান কারণ। বিশেষ করে মহাসড়কে ভারী যানবাহন (বাস ও ট্রাক) সঠিকভাবে চলছে কিনা- সেক্ষেত্রে আইনের কোন প্রয়োগ নেই। আইন প্রয়োগ নেই বললেই প্রশস্ত রাস্তা বা ভালো গাড়ি হলেও লাভ হচ্ছে না।
মহাসড়কগুলোর পাশে বাজার সড়ক দুর্ঘটনার আরেকটি কারণ। যারা বাজারে আসেন, তার একটু অসতর্ক থাকেন। তাই বলে মহাসড়কের পাশ থেকে বাজার সরিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। এজন্য যেসব বড় বাজার রয়েছে, সেখানে বাইপাস নির্মাণ করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। 
সম্প্রতি মহাসড়কগুলোতে রোড ডিভাইডার স্থাপনের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, নূন্যতম চারলেন সড়ক হলেই রোড ডিভাইডার দেয়া যায়। দেশের ঢাকা-নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-জয়দেবপুর, ঢাকা-দাউদকান্দি মহাসড়ক ছাড়া সকল মহাসড়ক দুই লেনের। এসব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করলে তা যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। এ ক্ষেত্রে এ ধরনের রোড ডিভাইডার বসানো অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত হবে না।