যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের আপিল শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য্য করেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ বুধবার এই আদেশ দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। এই দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন গোলাম আযম। অপরদিকে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে আপিল করে সরকার। আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য্যের জন্য কার্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়।
গোলাম আযমের পক্ষে সময় চেয়ে সিনিয়র এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ৯২ বছর বয়স্ক গোলাম আযম এখন গুরুত্বর অসুস্থ। তিনি জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। ফলে এ আপিলের শুনানির প্রয়োজন নাও হতে পারে। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে অনেক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। সেখানে এ মামলার শুনানি নিয়ে তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই।
জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, যুদ্ধাপরাধের আরও কয়েকটি আপিল নিষ্পত্তির অপেক্ষায় আছে। এ আপিল নিষ্পত্তি না হলে অন্যান্য আপিলের নিষ্পত্তি সম্ভব হবে না। যে কারণে এটির নিষ্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ২ ডিসেম্বর আপিলের ওপর শুনানির দিন ধার্য্য করে দেয়।
গত বছরের ১৫ জুলাই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়। অপরাধ বিবেচনায় ‘সর্বোচ্চ শাস্তি পাওয়ার যোগ্য’ হলেও ‘বয়স ও স্বাস্থ্যের অবস্থা বিবেচনায়’ তাকে এ দন্ড দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র, পরিকল্পনা, উস্কানি, সহযোগিতা এবং হত্যা-নির্যাতনে বাধা না দেয়া- এই পাঁচ ধরনের অপরাধের প্রতিটিই প্রমাণিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর মুক্তিযুদ্ধকালীন আমির গোলাম আযমের বিরুদ্ধে। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাকে মৃত্যুদন্ডের পরিবর্তে ৯০ বছরের কারাদন্ড দেয়া হলো।