এবার দুদকের ডিজিসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান

এবার মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সরকারি তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (ডিজি) কামরুল হোসেন মোল্লাসহ সংস্থার নয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। শুধু সনদ জালিয়াতি নয়, তাদের বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ ৯ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এমনকি অভিযোগটি অনুসন্ধানের জন্য টিম গঠন করেছে দুদক। দুদকের উপ-পরিচালক জুলফিকার আলীর নেতৃত্বে দুই সদস্যের টিমে রয়েছেন সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

দুদকসূত্র জানায়, যাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে তারা হলেন দুদকের মহাপরিচালক কামরুল হাসান মোল্লা, পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া, আবদুল আজিজ ভূঁইয়া, উপপরিচালক ঢালী আবদুস সামাদ, এস এম গোলাম মাওলা সিদ্দিকী ও সাবেক উপপরিচালক রঞ্জন কুমার মজুমদার। এছাড়া তিন কর্মচারী হলেন সহকারী পরিদর্শক আবদুস সোবহান, কোর্ট সহকারী (এএসআই) নুরুল ইসলাম ও ইসহাক ফকির।
দুদকসূত্র বলছে, এ নয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে সনদ নিয়ে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আইন বিভাগের মহাপরিচালক কামরুল হোসেন মোল্লা ও পরিচালক গোলাম ইয়াহিয়া অসত্য তথ্য প্রদান করে জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা সনদ গ্রহণ করেছেন বলে প্রাথমিক প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। এছাড়া গোলাম ইয়াহিয়া চাকরির প্রচলিত বয়সসীমা শেষে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সরকারের দেয়া সুবিধা অনুযায়ী এক বছর অতিরিক্ত সময় চাকরি করেছেন।

সমপ্রতি দুদকের অনুসন্ধান ও সুপারিশ অনুযায়ী জনপ্রশাসনের চার সচিবসহ পাঁচজনের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিলের ঘটনা ঘটে। সরকারি তদন্ত সংস্থা দুদকের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা ব্যাপারটি কমিশনকে বিব্রত করেছে বলে দুদকের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।