সিরিয়া থেকে মার্কিন সৈন্য পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন ঘোষণার পর বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন এর ফলে আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে আইএস জঙ্গি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পুরোপুরি জঙ্গিমুক্ত না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সফলতা পেয়েছেন। তাই এই মুহূর্তে আর সেখানে কোনো মার্কিন সৈন্য থাকার যৌক্তিকতা নেই। যদিও হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও ২শ শান্তিরক্ষী সেখানে থাকবে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠে এই নগণ্য সৈন্য দিয়ে দেশটির নিরাপত্তা কি আদৌ সম্ভব? অনেকেই মনে করছেন, সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থান প্রকারান্তরে জঙ্গিদের বেড়ে উঠারই সুযোগ করে দেবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তানসহ বেশ কয়েকটি দেশ থেকে তাদের সৈন্য কমিয়ে আনার কথা বলে আসছেন। সিরিয়া নিয়ে প্রথম ঘোষণা আসে গত বছরের ডিসেম্বরে। সে সময়ে সিরিয়া থেকে সব সৈন্য ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন তিনি। তার এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও সমালোচিত হয়। তখন তারা বলেন, এর মাধ্যমে যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়াকে আরো খারাপ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হবে। কেননা বিনা বাধায় আইএস জঙ্গি আবার বেড়ে উঠবে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সিরিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী সরে এলে তাদের মিত্র কুর্দি বাহিনী আক্রান্ত হতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকেও ট্রাম্প প্রশাসনের অনেকে মার্কিন সৈন্য রাখার কথা বলেছেন। সবদিক বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র যখন সেখানে মাত্র ২শ সৈন্য রাখার কথা বললো তখন তাতে অনেকেই এর সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক মহল বলছে, ট্রাম্প এখন বহির্বিশ্বের চেয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়েই বেশি নজর দিতে পছন্দ করছেন। কেননা অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও তিনি অনেকটা কোণঠাসা অবস্থানে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ‘শাট ডাউন’ তাকে আরো নাজুক অবস্থায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তৈরি নিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিরোধ এই অচলাবস্থার জন্য দায়ী। বিষয়টি যে শুধু ‘শাট ডাউন’ তা নয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একে একে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে থাকেন। এর মধ্যে প্রথমেই এসে যায় নির্বাচন নিয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি। ট্রাম্প অবশ্য এর সবকিছুই অস্বীকার করে আসছিলেন। যদিও তখনকার পরিস্থিতি এখন আর নেই। সেই রাশিয়ার সঙ্গেও এখন আর তার ভালো সম্পর্ক নেই। তবে প্রথম থেকেই ট্রাম্পকে নানা চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে আসতে হয়েছে। নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাও তার বিরুদ্ধে এসেছে। এসবতো গেলো ট্রাম্পের ক্ষমতায় আসার প্রথম দিককার কথা। পরের কথা হচ্ছে এর পরেও তাকে অনেক কিছু মোকাবিলা করতে হয়েছে।
সিরিয়া থেকে ট্রাম্পের সৈন্য প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তেমন একটা প্রভাব না ফেললেও এর সুদূরপ্রসারী ফল নেতিবাচক হতে বাধ্য। কারণ এর ফলে সিরিয়া পরিস্থিতি আবারো যে জঙ্গিদের শক্ত আস্তানায় পরিণত হবে না তার কোনো গ্যারান্টি নেই।