নিঝুম দ্বীপের ভূমি বরাদ্দে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা

সংরক্ষিত বনভূমি নিঝুম দ্বীপের ভূমি বরাদ্দ এবং সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই এলাকার ভূমি ইতিপূর্বে যাদের নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের তালিকা প্রস্তুত করে তা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। নোয়াখালী জেলা রেজিস্ট্রার, হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারি ভূমি কমিশনার ও সাব-রেজিস্ট্রারকে এ আদেশ প্রতিপালন করতে বলা হয়েছে।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন। এছাড়া পুরো নিঝুম দ্বীপের উপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করে তা আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিঝুম দ্বীপে ইতিপূর্বে দেয়া ভূমি বরাদ্দ কেন বাতিল এবং এই সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র সচিব, পরিবেশ ও বন সচিব, ভূমি সচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পুলিশের আইজি, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১৭ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
নিঝুম দ্বীপ রক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী আবু বকর ও ফটো সাংবাদিক রকিবউদ্দিন এনায়েত। রিট আবেদনে সংরক্ষিত বনভূমি হওয়া সত্ত্বেও নিঝুম দ্বীপের জমি স্থানীয় প্রশাসন ব্যক্তি নামে বরাদ্দ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ২০১২ সালের ১৯ নভেম্বর সরকারের জারি করা এক প্রজ্ঞাপন সংযুক্ত করে দেয়া হয়। ওই প্রজ্ঞাপনে বন আইন, ১৯২৭ এর ২০ ধারার ক্ষমতাবলে নিঝুম দ্বীপকে সংরক্ষিত বনভূমি হিসাবে ঘোষণা  দেয়া হয়েছে। 

আবেদনের পক্ষে শুনানিকালে ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, ৪০ হাজার একর আয়তনের নিঝুম দ্বীপকে সংরক্ষিত বনভূমি হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। অথচ একটি স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশে এ দ্বীপের জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সংরক্ষিত বনের জমি কোন ব্যক্তি নামে লিজ দেয়া যাবে না। তিনি আরো বলেন, ভূমি দখলের পাশাপাশি দ্বীপের বিভিন্ন বৃক্ষ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে।  বন্যপ্রাণী বিশেষ করে হরিণ নিধন করা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্বীপটির পরিবেশগত ভারসাম্য বিনষ্ট হবে। তাই অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া দরকার। শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমী। শুনানি শেষে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন ওই নিষেধাজ্ঞা ও রুল জারি করে।