গোলাম আযমের ইন্তেকাল, লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত গোলাম আযম গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত জানিয়েছেন, তার চিকিত্সার জন্য উচ্চ পর্যায়ের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এই মেডিক্যাল বোর্ডের অধীনে তার সর্বোচ্চ চিকিত্সা সেবা দেয়া হচ্ছিল। রাত ১০টা ১০ মিনিটে হূদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন।
জানা গেছে, রাতেই সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকাল সাতটা ২০ মিনিটের দিকে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তার লাশ মগবাজারের বাসায় নিয়ে গেছে।
মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের  দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমকে গত বছরের ১৫ জুলাই ৯০ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ । তার অপরাধ মৃত্যুদণ্ড পাওয়ার যোগ্য হলেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে এই দন্ড দেয়া হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংগঠনে ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার দায়ে ১০ বছর করে ২০ বছর, উস্কানির দায়ে ২০ বছর, অপরাধ সংগঠনে সহযোগিতার দায়ে ২০ বছর এবং একাত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার দারোগা সিরু মিয়া ও আরো তিনজনকে হত্যার দায়ে তাকে ৩০ বছর কারাদণ্ড দেয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিজন সেলে চিকিত্সাধীন গোলাম আযমের রক্তের চাপ কমে যায়। চিকিত্সকরা জানান, তিনি শকে (নিস্তেজ) চলে যান। এরপর তার হার্ট এ্যাটাক হয়। দ্রুত তাকে প্রিজন সেল থেকে সিসিইউতে নেয়া হয়।
 বিশিষ্ট করোনারি বিশেষজ্ঞ ডা. মোস্তফা জামান বাবুলের অধীনে তাকে ভর্তি করা হয়। সিসিইউতে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখেন চিকিত্সকরা। সকাল ১০টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে। এই মেডিক্যাল বোর্ডের অধীন গোলাম আযমের চিকিত্সা চলতে থাকে। এর আগে প্রিজন সেলে তাকে প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ’র অধীনে ভর্তি করা হয়।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোলাম আযমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। রাত সাড়ে ৯টার দিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে গোলাম আযম মারা গেছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিসিইউতে সাংবাদিকসহ তার পরিবারের সদস্যরা ভীড় করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোলাম আযমের ব্যক্তিগত ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের জানান, তিনি মারা গেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তার লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়ার কথা জানিয়েছেন।
পরে চিকিত্সকরা জানান, হাসপাতালের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেয়া হবে। রাত পৌনে ১২টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের কাছে জানান যে তিনি আর নেই। তিনি হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
এদিকে, গোলাম আযমের ছেলে সাবেক সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহহিল আমান আযমী বলেন, বাবার (গোলাম আযমের) ইচ্ছা অনুযায়ী মগবাজারে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবার (গোলাম আযমের বাবা) কবরের পাশে দাফন করা হবে। বর্তমানে তাদের ছয় ভাইয়ের ৫ ভাই সপরিবারে বিদেশে অবস্থান করছেন। তারা দেশে আসলে দাফন করা হবে।
এদিকে, বাংলাদেশ অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গোলাম আযমের মৃত্যুতে শহীদের আত্মা শান্তি পাবে।