কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্যাস হ্রাসে সম্মত ইউ নেতারা

 
 
 
মতপার্থক্য ঘুঁচিয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন শতকরা ৪০ ভাগ কমাতে সম্মত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এ ছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শতকরা ২৭ ভাগে উন্নীত করার বিষয়েও একমত হয়েছে কমিশন। শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউর শীর্ষ সম্মেলনে এ বিষয়ে এক চুক্তিতে উপনীত হন সংগঠনটির নেতারা। খবর আল-জাজিরার।
এ চুক্তিতে ১৯৯০ সালের তুলনায় কার্বন-ডাই অক্সাইডের উদগীরণ শতকরা ৪০ ভাগ হ্রাস করতে একমত হয়েছে ২৮ দেশের নেতারা। এ ছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা শতকরা ২৭ ভাগ বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। ইউ প্রেসিডেন্ট হারমান ভ্যান রমপুই তার টুইট বার্তায় লিখেছেন, অন্ততপক্ষে ৪০% গ্যাস উদগীরণ হ্রাসে সম্মত হওয়া গেল। একে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চাকাক্ষী, স্বল্প মূল্যের এবং অবাধ জলবায়ু শক্তি-সংক্রান্ত নীতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি। ২০১৫ সালের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে প্যারিসে অনুষ্ঠেয় শীর্ষ সম্মেলন সামনে রেখে এই চুক্তিতে রাজি হলেন নেতারা। এ বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান জোসে ম্যানুয়েল বারোসো বলেছেন, এ চুক্তি করার ফলে প্যারিস কনফারেন্সে ইউ চালকের আসনে থাকবে। তবে পরিবেশ গ্রুপগুলো বলেছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা হ্রাসে এ চুক্তি খুব বেশি কার্যকর হবে না।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের লক্ষ্যমাত্রার ওপর নির্ভর করে জলবায়ু চুক্তি নির্ধারণ করা হয়। ২০২০ সালের জন্য ইউর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, গ্রিন হাউস গ্যাস নিঃসরণ শতকরা ২০ ভাগ হ্রাস করা যা মূলত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী। এ ছাড়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেমন সৌরশক্তি ও বায়ুপ্রবাহ এবং শক্তি ক্ষমতা শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি করা। সে জায়গায় বর্তমান লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে শতকরা ৪০ ও ২৭ ভাগ। তবে জ্বালানির পরিমাণ শতকরা ৩০ ভাগ করার আশা প্রকাশ করা হয়েছিল। মানবাধিকার সংগঠন অক্সফাম জানিয়েছে— নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাড়াতে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেটি খুই অপ্রতুল। এতে ইউরোপে দূষণের মাত্রা কমবে না। গ্যাস উদগীরণ মাত্রা ৫৫% হ্রাস, শক্তি সংরক্ষণ ৪০% এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা ৪৫% উন্নীত করার দরকার ছিল। এ দিকে, এ বৈঠকে নেতারা ইবোলা ভাইরাসে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।