রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম

‘জামায়াত-বিএনপি মুখোশধারী শয়তান, তারা পদে পদে মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে’

 
 
 
 
স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ‘জামায়াত-বিএনপি মুখোশধারী শয়তান। তারা পদে পদে বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে বেইমানি করেছে। তাদের রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধ করতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ কর্মীদের আচার-আচরণে, নৈতিকতায় ভালো হতে হবে। নইলে শেখ হাসিনার ক্ষতি হয়ে যাবে।’
শনিবার দুপুরে স্থানীয় মেডিক্যাল কলেজ অডিটরিয়ামে রাজশাহী মহানগরীর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘শেখ হাসিনার কোনো ক্ষতি হয়ে গেলে বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক দেশ আর থাকবে না। মুখোশধারী ওই জামায়াত-বিএনপি বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক দেশে পরিণত করবে। উন্নয়নের পথে ধাবিত হওয়া বাংলাদেশকে পিছিয়ে দেবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত বিএনপি আন্দোলন করতে জানে না; তারা জানে বোমাবাজি করতে, ভাংচুর করতে, পুলিশ হত্যা করতে, মানুষকে পুড়িয়ে মারতে। খালেদা জিয়া মাঠে নেমেছেন আন্দোলন করতে। তারা সভা-সমাবেশ করুক; কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে তাদের কালোহাত ভেঙ্গে দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি এখন ইলেকশন চাচ্ছে। কিন্তু ইলেকশনের ট্রেন তারা মিস করেছেন। আগামী ২০১৯ সালের আগে তারা আর ট্রেন ধরতে পারবেন না। শেখ হাসিনা তাদের ডেকেছিলেন নির্বাচন করতে। কিন্তু তারা তাদের মুরুব্বি ও জামায়াত শিবিরের কথা শুনে নির্বাচনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যায়। জনগণের ওপর বোমাবাজি করেছেন, মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছেন। মনে রাখবেন, জনগণ ছাড়া কোনো আন্দোলন হয় না। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন করে বাংলাদেশর গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন শেখ হাসিনা। সংবিধানের কোথাও লেখা নাই ৫ বছরের আগে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। ২০১৯ সালের আগে কোনো নির্বাচন হবে না; হবে না।’
ড. কামাল হোসেনকে উদ্দেশ্যে করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি সংবিধান লিখেছেন। কিন্তু পাঁচ বছরের আগে নির্বাচন চাচ্ছেন। সংবিধানের কোথায় লেখা আছে যে ৫ বছরের আগে নির্বাচন করতে হবে। এ জন্য অহেতুক অপ্রসঙ্গিক কথা বলে দেশের জনগণের মাঝে আর কোনো বিভ্রান্তি ছড়াবেন না।’
রাজশাহী মহানগরীর সম্মেলনে নেতা নির্বাচনের জন্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করতে হবে। সমঝোতাই সবচেয়ে ভালো পন্থা। সমঝোতা না হলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এই সম্মেলন উদ্বোধন করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি না আসায় সম্মেলনের প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাসিম উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, আন্তর্জাতিক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ ফারুক খান, কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্য আবদুর রহমান, আখতার উজজামান ও মির্জা আজম। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ বজলুর রহমান। সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি এবং রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি। এছাড়াও রাজশাহী জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, রাজশাহী, নাটোর, জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলা থেকে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
বিকেল তিনটায় শেষ হওয়া প্রথম অধিবেশনের মাধ্যমে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। বিকেল চারটায় দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হবে।