নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ ৬৪ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে আলালের লালমাটিয়ার বাসায় বৈঠকের সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছে। গ্রেফতার আলালকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে এবং বাকিদের মোহাম্মদপুর থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আজ রবিবার তাদের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। এদিকে নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুবদলের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানিয়ে সোমবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ইত্তেফাককে জানান, রবিবার ইসলামী দলগুলোর ডাকা হরতাল ও বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজিরাকে কেন্দ্র করে নাশকতার পরিকল্পনা চলছিল, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালমাটিয়ার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত ৬৪ জনকে প্রথমে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাশকতার পরিকল্পনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। বিপ্লব সরকার বলেন, আটককৃতদের সবাই যুবদলের নয়। এদের মধ্যে মাদ্রাসা-মসজিদের কিছু লোক রয়েছে। হরতালকে সামনে রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করতে ওই বৈঠক করা হচ্ছিল বলে আমরা ধারণা করছি। তবে বিএনপি’র দাবি তাদের ৮০ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুল হক ইত্তেফাককে বলেন, আলালের বাসার পার্কিং প্লেসে গতকাল সকালে বিভিন্ন বয়সী নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছিলেন। হরতালের আগের দিন হওয়ায় এ ধরনের জমায়েতকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। পরে নাশকতার পরিকল্পনার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে যুবদল, ছাত্রদল ছাড়াও বিএনপি’র বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মী রয়েছেন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ইসলামী কয়েকটি দলের কর্মীও আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ছাড়াও রয়েছেন সাইফুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর হোসেন। অন্যদের সবার নাম জানা যায়নি। পরে আলালকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নয়ন মিয়া বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ গ্রেফতারকৃত এই ৬৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে বিতর্কিত মন্তব্য করায় মন্ত্রিসভা থেকে সদ্য অপসারিত লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেফতার দাবিতে আজ রবিবার সারাদেশে হরতাল ডেকেছে সম্মিলিত ইসলামী দলগুলো। একই দিনে দুর্নীতির একটি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের আদালতে হাজির হওয়ার দিন নির্ধারিত রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের অভিযোগ, খালেদা জিয়াকে খুশি করতেই তার আদালতে হাজিরার দিন হরতাল ডেকেছে ইসলামী দলগুলো।
যুবদলের বিক্ষোভ কাল
কেন্দ্রীয় সভাপতিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে কাল সোমবার সারাদেশের জেলা ও থানায় বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল। সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরব গতকাল নেতা-কর্মীদের এ কর্মসূচি পালনের নির্দেশ দেন। আলালকে অবিলম্ব্বে নিঃশর্ত মুক্তি না দিলে পরবর্তীতে আরো কঠোর কর্মসূচির হুমকি দেন তারা। পাশাপাশি গ্রেফতারের ঘটনার নিন্দা জানান।