ঢাকা রাজশাহী ও চট্টগ্রামে একযোগে হামলার ষড়যন্ত্র

দেশের তিন বিভাগীয় শহর ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে একযোগে হামলার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। চলতি সপ্তাহেই এই হামলার প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল তারা। নিজেদের শক্তির জানান দিতেই এই পরিকল্পনা নিয়েছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে গড়ে ওঠা জঙ্গিদের নতুন প্লাটফর্ম ‘জিহাদি গ্রুপ’। গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেফতার হরকাতুল জিহাদের চার সদস্য পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত আগস্ট মাসেই জঙ্গিরা হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বেশি তত্পর থাকায় সে সময় তারা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় দফায় তারা অক্টোবরের শেষ সপ্তাহকে বেছে নেয়। আর তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেশ কয়েকজন ভিআইপি ব্যক্তি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ রাজধানীর উত্তরা, টিকাটুলি ও নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে ওই চার জঙ্গিকে গ্রেফতার করে। এরা হলেন: রফিক আহমেদ ওরফে সাজিদ (৩৪), উমর ওরফে ফয়জুল ওরফে রবি (২৫), নাদিম আহমেদ ওরফে সুমন (৩০) ও সালাউদ্দিন আহমেদ (২৯)। ওয়ারী থানায় দায়ের করা দুইটি মামলায় গতকাল শনিবার তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে ডিবি।
এদিকে অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পাকিস্তানে তৈরি একটি সাব মেশিন গান, বিভিন্ন ধরনের উচ্চমাত্রার বিস্ফোরক, ডেটনেটর ও বোমা তৈরির সরঞ্জামাদি। এ সময় পুলিশ বোমা তৈরির কাজে ব্যবহূত দুইটি ল্যাবরেটরীরও সন্ধান পায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন উত্স ছাড়াও পাকিস্তান থেকে তাদের কাছে অর্থ সহায়তা আসতো।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ‘বোম ডিস্পোজাল ইউনিট’ প্রধান এডিসি মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রফিক আহমেদ ওরফে সাজিদ ফতুল্লার বক্তাবলি ফয়জুলুল মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম। জঙ্গিদের নতুন প্লাটফর্ম ‘জিহাদি গ্রুপ’কে সে সংগঠিত করছিল। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে মুফতি জাফরের নির্দেশনায় সে বোমা তৈরির দুটি ল্যাব গড়ে তোলে। এর একটি ঢাকার ওয়ারীতে, অপরটি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়। ল্যাব দুটি গড়ে তুলতে তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে প্রাইম ইউনিভার্সিটির রসায়ন বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র উমর ওরফে ফয়জুল ওরফে রবি। আর লজিস্টিক সাপোর্ট ও অর্থ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতো নাদিম আহমেদ ও সালাউদ্দিন আহমেদ। এদের সঙ্গে আরও কয়েকজন রয়েছে। তাদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এডিসি ছানোয়ার আরো বলেন, জঙ্গিদের ল্যাব থেকে উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের ব্যবহার দেশে পূর্বে দেখা যায়নি। এছাড়া তাদের কাছে যে সাব মেশিন গানটি পাওয়া গেছে সেটি মূলত মুফতি জাফরের। সাংগঠনিক সূত্রে তারা এটি পেয়েছে। সাব মেশিন গানটি উমরের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আগস্ট মাসে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করার পরিকল্পনা নিয়ে জঙ্গিরা অগ্রসর হচ্ছিল। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনাকীর্ণ স্থাপনা এবং সাবেক মন্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তির ওপর হামলার টার্গেট ছিল তাদের। তবে আগস্ট মাসে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তত্পরতা বেশি থাকায় মুফতি জাফরের নির্দেশে তারা অক্টোবর মাসের শেষের দিকে নাশকতা ঘটানোর পরিকল্পনা করে। সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।