অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হল শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ নেতা-কর্মীকে আজীবনসহ আরও ১৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিল কক্ষে ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সিন্ডিকেটে শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিন্ডিকেট সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বহিষ্কৃতদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর আগে একই ঘটনায় গত ২২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রলীগের ১৬ নেতা-কর্মীকে সাময়িক বহিষ্কার করে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কৃতরা হলেন ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম নুরুন্নবী (বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক্স), মওলানা ভাসানী হল শাখার সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ বাড়ৈ (নৃবিজ্ঞান), মো. এ কে এম খায়রুজ্জামান ওরফে সঞ্চয় (ইতিহাস), খন্দকার নাঈমুল ইসলাম ওরফে নাঈম (মার্কেটিং), কিশোর দাশ (পদার্থ বিজ্ঞান), সাদ্দাম হোসেন (উদ্ভিদ বিজ্ঞান), এম মঈনুল হোসাইন ওরফে রাজন (নৃবিজ্ঞান), শান্ত কুমার নাথ (পরিবেশ বিজ্ঞান), শিহাব খন্দকার ওরফে শিহাব (পরিবেশ বিজ্ঞান), রাজ প্রসাদ ওরফে রাজ (পরিবেশ বিজ্ঞান), তানভীর সজিব (মার্কেটিং), মো. আদেল আল নোমান (মার্কেটিং),রায়হান হাবীব (মার্কেটিং), মো. নিশাত রহমান (ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং), শাকিল উজ জামান ওরফে শাকিল (ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং) ওইশতিয়াক আহমেদ ওরফে বিজয় (রাসয়ন)। উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র গত ১৯ আগস্ট মধ্যে রাতে মওলানা ভাসানী হল শাখার সভাপতি শাকিল গ্রুপের নেতাকর্মীদের উপর দেশী অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় সাধারণ সম্পাদক অনিন্দ বাড়ৈ গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এতে সভাপতি গ্রুপের ১০জন আহত হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতারকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিত জানান, ৫জনকে আজীবন,৭জনকে ২বছর,৩জন কে ১ বছর বাকীদের কে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করা হয়েছে।