প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাখ্যা চাইলো বাংলাদেশ

গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির লংঘন করে ভারত গঙ্গা নদীতে ১৬টি ব্যারেজ নির্মাণ করতে যাচ্ছে। গঙ্গায় বাঁধ নির্মাণের জন্য ভারতের উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাখ্যা চাইলো বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে ভারত সেখানে কী করতে চাইছে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবারেই নয়াদিল্লিকে এ বিষয়ে কূটনৈতিক পত্র (নোট ভারবাল) দেয়া হয়েছে। কেননা, গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে না জানিয়ে ভারত গঙ্গায় কোন অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে না। যদি করতেও হয় তবে দুই দেশের সমঝোতার ভিত্তিতে হতে হবে। একটি দেশ অপর দেশকে না জানিয়ে কিছু করতে পারবে না।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ভারত অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি ও পর্যটন বিকাশে এলাহাবাদ থেকে হলদিয়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার নদীতে ১০০ কিলোমিটার অন্তর অন্তর ১৬টি ব্যারেজ নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে ভারতের পানি সম্পদ সচিবের নেতৃত্বে একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সেই কমিটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রাপ্ত গঙ্গা উন্নয়ন প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প করবে বলে জানা গেছে। ভারতের এসব উদ্যোগেরই প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় প্রথম পর্যায়ে গঙ্গা নদীর নির্ধারিত বিভিন্ন অংশে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি করে নৌ-পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪৫ কিলোমিটার চওড়া ও ৩ মিটার গভীরে খনন করা হবে। ভারত বলছে, পর্যটন খাতের বিকাশের জন্য এই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ফোনে পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, এই ব্যারেজ নির্মাণের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে কূটনৈতিক পত্রে। গঙ্গায় উজানে এই বাঁধ দেয়া হলে তা বাংলাদেশের ওপরে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। তাই বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রেরিত কূটনৈতিক পত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদী স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তি অনুযায়ী গঙ্গা নদীর ফারাক্কা পয়েন্টে প্রতি বছর শুকনো মৌসুমে (ডিসেম্বর-মে) দু’দেশের মধ্যে প্রাপ্ত পানির প্রবাহ বণ্টন করা হচ্ছে। ভারত কর্তৃক গঙ্গা নদীতে প্রস্তাবিত ব্যারেজসমূহ নির্মাণ করলে গঙ্গার প্রবাহ ফারাক্কায় হ্রাস পেতে পারে। এর প্রেক্ষিতে বর্তমানে বিদ্যমান গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম পানি পাবে। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের গঙ্গা নির্ভরশীল এলাকায় কৃষি, আর্থ সামাজিক ও পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব পড়বে মর্মে যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ আশংকা ব্যক্ত করেছে।’পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার (ওয়ারপো) সাবেক মহাপরিচালক পানি বিশেষজ্ঞ ম. ইনামুল হক বলেন, গঙ্গায় ব্যারেজ নির্মাণ করা হলে বাংলাদেশ ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কারণ বর্তমানে কিছুদিন পরপর পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে দু’দেশের পানি প্রাপ্যতা নিরূপণ করা হয়। এভাবে যদি ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে পানি প্রত্যাহার করা হয়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে। তিনি বলেন, উপকূলে লবণাক্ততা যেভাবে বাড়ছে তা আরো বৃদ্ধি পাবে এবং জীব বৈচিত্র্যে এর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়বে। এদিকে, দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মাথাভাঙ্গা, গড়াই, বড়াল, ইছামতীসহ গঙ্গা নদীর শাখা নদীগুলো শুকিয়ে গেছে। ভারত ফারাক্কা ব্যারেজ করার পর থেকেই এসব নদীতে শুকনো মৌসুমে খুব কম পানি থাকে। ব্যারেজ নির্মাণ করে পানি প্রত্যাহার শুরু করলে এইসব ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে।