সংযুক্ত আরব আমিরাতে(ইউএই) তিন দিনের সরকারী সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে দেশের উদ্দেশে দুবাই ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৬ টা ১৫ মিনিটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করে। রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছার কথা রয়েছে।
আরব আমীরাতের সমাজ কল্যান মন্ত্রী মরিয়ম মোহাম্মদ খালফান আল রুমি, ইউএই তে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্র দুত মোহাম্মদ ইমরান এবং উভয় দেশের উর্ধতন কর্ম কর্তাগন বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ইউএইর ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম, যুবরাজ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
শেখ হাসিনা রাস আল -খাইমাহও(আরএকে) পরিদর্শন করেন এবং সেখানকার সরকার প্রধান শেখ সৌদ বিন আকর আল-কুয়েসির সঙ্গেও বৈঠক করেন। আবু ধাবিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া এক সম্বর্ধনায়ও যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী সফরকালে বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে বানিজ্য, জনশক্তি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার লক্ষ্যে এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো জোরদার করার প্রয়াসে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষন ব্যুরো(বিএমইটি) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেশাদার জনশক্তি রিক্রুটিং এজেন্সি আমলা গ্রুপের সঙ্গে একটি যৌথ চুক্তিও (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে ১৪টি পেশার বাংলাদেশী নারীদের নিয়োগ করবে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে শর্ত- সাপেক্ষে বাংলাদেশ নারী শ্রমিক সেখানে পাঠাতে পারবে এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।এই কার্য সম্পাদন করতে আগামী বছর থেকে ঢাকাস্থ দূতাবাসে একটি লেবার এটাচে নিয়োগ দিতে সম্মত হয়েছে ইউএই।
দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ডের(ডিপি ওয়ার্ল্ড) চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী পটুয়াখালীর পায়রায় একটি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠার জরিপ চালানোর জন্য দুবাই পোর্ট ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষকে আহবান জানান।
তিনি আহমেদ বিন সুলাইয়েমকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন, চট্টগ্রামের টেকনাফ থেকে মিরেশ্বরাই পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভয়ে এবং বাংলাদেশে একটি আধুনিক বিমান বন্দর প্রতিষ্ঠারও আহবান জানান।
প্রধানমন্ত্রী ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর সামুদ্রিক সম্পদের ওপর বাংলাদেশের সার্বভৌমত¦ প্রতিষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ড চেয়ারম্যান খুব শিঘ্রই বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠাতে সম্মত হন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকারে বাংলাদেশ এবং সংযুক্ত আরব- আমীরাতের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা চুক্তি,বন্দি বিনিময় ,এবং ঢাকায় আমীরাতের দূতাবাস স্থাপনের জন্য এক খন্ড জমি প্রদানের চুক্তি স্বক্ষর হয়।
শেখ হাসিনা সে দেশের জাতির পিতা শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান মাজার ও মসজিদ পরিদর্শন এবং ফাতেহা পাঠ করেন। খবর বাসস।