মোদি সরকারের ৪৪ মন্ত্রীর ৪১ জনই কোটিপতি

 
সম্পদই স্বাস্থ্য! অন্তত ভারতের বর্তমান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার চিত্র দেখলে এমনটিই মনে হবে। মোদি সরকারের ৪৪ মন্ত্রীর মধ্যে ৪১ জনই কোটিপতি। মন্ত্রীদের কোটিপতি হওয়ার শতকরা হার ৯১ শতাংশ। এর মধ্যে দুই মন্ত্রণালয় অর্থ ও প্রতিরক্ষার দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী অরুণ জেটলিই সবচেয়ে ধনী। তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১১৪ দশমিক ০৩ কোটি রুপি। অরুণ জেটলি ভারতের প্রথম সারির একজন আইনজীবী। দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থমন্ত্রী জেটলির বেড়েছে এক কোটি এক  লাখ রুপি।
কোটিপতিদের কাতারে আছেন রেলমন্ত্রী ডি. ভি. সদানন্দ গৌড়া। মন্ত্রী হওয়ার পর তার সম্পদের পরিমাণ অনেক বেশি বেড়েছে। লোকসভা নির্বাচনের সময় তার সম্পদ ছিলো ৯ দশমিক ৮৮কোটি। দায়িত্ব গ্রহণের এই কয়েক মাসে তার সম্পদের পরিমাণ ১০ দশমিক ৪৬ কোটি বেড়ে ২০ দশমিক ৩৫ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ভারি শিল্প  ও পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস প্রতিমন্ত্রী (ইন্ডিপেন্ডেন্ট চার্জ) রাধাকৃষনান পি. এর সম্পদ ছিলো ৪ দশমিক ৯ কোটি। এই কয়েক মাসে বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি।
মোদি সরকারের মন্ত্রীদের সম্পদের বিশ্লেষণ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এসোশিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) ও ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ (এনইডব্লিউ)। মে মাসে নির্বাচনের হলফনামায় দেয়া বিবরণ এবং তার পাঁচ মাস পর প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে দেয়া সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণের পর এই হিসাব বের করা হয়েছে। নরেন্দ্র মোদিসহ মোট ৪৫ মন্ত্রীর সম্পদের হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ৪৫ মন্ত্রীর মধ্যে ৩৭ জনই এবারের লোকসভা নির্বাচনে লড়েছেন। বাকিরা রাজ্যসভার সদস্য।
অন্যমন্ত্রীদের মধ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ মন্ত্রী হারসিমরাত কাউর বাদলের সম্পদের পরিমাণ ১০৮ দশমিক ৩১ কোটি। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী পীযুশ গয়াল ৯৪ দশমিক ৬৬ কোটি রুপির সম্পদের মালিক। এডিআরের তথ্য অনুযায়ী অনেক মন্ত্রী তাদের কৃষি জমির আর্থিক মূল্য ঘোষণা করেনি।
অন্যদিকে কম ধনী মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন, বিজেপির মন্ত্রী সুদর্শন ভগত ৫৯ দশমিক ১৩ লাখ, মানসুখভাই ধনজিভাই ভাসাবা ৬৫ দশমিক ৭১ লাখ ও বিলাস পাসওয়ান ৯৫ দশমিক ৭১ লাখ রুপির সম্পদের মালিক। হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৬ মন্ত্রীর সম্পদ পাঁচ মাসে কমেছে। এদের মধ্যে আছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, প্রতিমন্ত্রী ভিকে সিং। এর আগে কংগ্রেস সরকারের আমলে ৭৯ মন্ত্রীর মধ্যে ৪৭ জন ছিলেন কোটিপতি। যাদের শতকরা হার ছিলো ৬০ শতাংশের মতো।