শুধু ভারত নয়, জঙ্গিদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশও। পশ্চিমবঙ্গে এধরনের জঙ্গি ঘাঁটি গড়ে ওঠা ভারতের নিরাপত্তা তো বটেই প্রতিবেশী দেশের জন্যও উদ্বেগের। বর্ধমানের বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ভবন নবান্নে গতকাল সোমবার এই বৈঠকে মমতা ব্যানার্জির কাছে জঙ্গি দমনে আরো বেশি সহায়তার আশ্বাস চেয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় মমতা ব্যানার্জিও জানিয়েছেন সন্ত্রাস দমনে দিল্লিকে সহায়তা দেবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলাদেশকে লক্ষ্যে পরিণত করা জঙ্গিরা যাতে এরাজ্যে আশ্রয় না পায় সে বিষয়টি দেখতে তিনি পুলিশ, প্রসাশনকে আরো সতর্ক হতে বলবেন বলে জানান মমতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক দপ্তরের সচিব প্রকাশ মিশ্র বলেন, ঘটনাটি উদ্বেগের। তাই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিজেই চলে এসেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি বুঝেছেন। গুরুত্ব দিয়েছেন।
এর আগে বর্ধমান বিস্ফোরণে নাশকতার উত্স সন্ধানে খাগড়াগড় বিস্ফোরণস্থল ঘুরে দেখেন অজিত দোভাল। সঙ্গে এনআইএ’র ডিজি শরদ কুমার ও এনএসজি’র ডিজি জয়ন্তনারায়ণ চৌধুরী। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে বাড়িটি ঘুরে দেখার পর তারা যান বর্ধমান সার্কিট হাউসে। অজিত দোভাল সেখানে বিস্ফোরণের ঘটনায় এনআইএ’র তদন্তকারী গোয়েন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর তারা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
গত ২ অক্টোবর খাগড়াগড়ে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর রাজ্য পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। প্রথম দিকে বিষয়টিকে স্রেফ ‘বিস্ফোরণ’ বলে চালানোর চেষ্টা করা হয় রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে। গত ৯ অক্টোবর জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ) তদন্ত শুরু করে। তদন্তে নেমে বিস্ফোরণস্থল থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর ইম্প্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি), আধুনিক অস্ত্র এবং বোমা তৈরির উপাদান। বর্ধমানের পাশাপাশি তদন্তে উঠে বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার নামও।