প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশ সংযুক্ত আরব-আমিরাতে (ইউএই) বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সকল বাধা দূর করতে সে দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী গতকাল সোমবার দুবাইয়ে জাবেল প্যালেসে ইউএই’র প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে বৈঠকে এই অনুরোধ জানান। খবর বাসস’র।
এদিকে, বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারে বাংলাদেশ ও ইউএই’র মধ্যে তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গতকাল দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ইউএই’তে তিন দিনের সরকারি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ বিমানে দেশের উদ্দেশে দুবাই ত্যাগ করেন। গতকাল রাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছান।
বাংলাদেশের শ্রমিক নিয়োগের আহবান
ইউএই’র প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন রশীদ আল মাকতুমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে শ্রমিক নিয়োগসহ দ্বিপক্ষীয় সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র সচিব আরো বলেন, বৈঠকে দুই প্রধানমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পটুয়াখালীর পায়রায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ও চট্টগ্রামে টেকনাফ থেকে মিরেরসরাই পর্যন্ত ১৫০ কিলোমিটার ম্যারিন ড্রাইভওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় স্থান পায়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ইউএই’র উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমিকরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছে। জবাবে মাকতুম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আর্থ-সামাজিক খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশি শ্রমিকরা খুবই আন্তরিক ও কর্মঠ উল্লেখ করে ইউএই’র প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিছু জটিলতা রয়েছে। সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এসব জটিলতা নিরসন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমুদ্রসীমায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিষয়ে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ার পর সম্পদে ভরপুর সামুদ্রিক এলাকাগুলোতে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য করার মতো অনুকূল পরিবেশ রয়েছে বলে একমত ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে আমিরাতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আরব-আমিরাত এয়ারলাইন্সের ভাল ব্যবসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান। শহীদুল হক বলেন, ইউএই’তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পুনরায় নিয়োগ করার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ব্যবসা-বাণিজ্য, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন যুগের সূচনা করেছে। তিনি আরো বলেন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে শ্রম বাজারে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের একটি ভিত্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রেস সেক্রেটারি একেএম শামীম চৌধুরী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
৩ চুক্তি স্বাক্ষর
গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা, দণ্ডিত বন্দি বিনিময় এবং ঢাকায় ইউএই দূতাবাস নির্মাণে জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রথম দুই চুক্তি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইউএই’র অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান এবং অপর চুক্তিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী ও ইউএই’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, সাজাপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর চুক্তির আওতায় উভয় দেশ আলোচনার মাধ্যমে আসামি হস্তান্তর করতে পারবে। অন্যান্য দেশের সঙ্গে যে ধরনের চুক্তি আছে, এক্ষেত্রেও সেভাবেই হয়েছে। এটি একটি মানবিক চুক্তি, উভয় দেশের স্বার্থই রক্ষিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুসমর্থনের মাধ্যমে ৩০ দিনের মধ্যে এ চুক্তি বাস্তবায়ন করা যাবে বলেও জানান তিনি।
অতিরিক্ত সচিব আরো বলেন, নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তিটি করা হয়েছে সন্ত্রাসবাদ, অস্ত্র, মাদক ও মানবপাচার রোধে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য। উভয় দেশের আস্থার পরিবেশ উন্নতিতে এ দুটি চুক্তি হয়েছে।
এর আগে আমিরাত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সকালে আবুধাবি থেকে দুবাইয়ে আসেন।