নিজামীর রায় বুধবার

 
দীর্ঘ প্রায় এক বছর অপেক্ষার পর বুধবার জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। নিজামীকে ইতিমধ্যে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মঙ্গলবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ের জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে সকাল সাড়ে দশটার মধ্যে নিজামীকে আদালতে হাজির করার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এটি হবে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দুই ট্রাইব্যুনাল থেকে দেয়া দশম রায়। এর আগে চলতি বছরের ২৪ জুন নিজামীর মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলো যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল। কিন্তু অসুস্থতার জন্য নিজামীকে আদালতে হাজির করতে না পারায় ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা তৃতীয় দফায় অপেক্ষমাণ রাখেন।
একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ যুদ্ধাপরাধের ১৬ অভিযোগে বিচার হচ্ছে নিজামীর। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের ১৫টিই প্রমাণ হয়েছে দাবি করে আদালতের কাছে সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের দাবি নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ গণহত্যা, সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির অভিযোগসহ ১৯৭১ সালের কোন অপরাধ প্রমাণ করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন বলে আশা করছে তারা। এদিকে, রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো।
২০১০ সালের ২৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত নয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে তিনটি ও ট্রাইব্যুনাল-২ থেকে ছয়টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। আর নিজামী বাদে দুই ট্রাইব্যুনালে পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলার রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রইলো। এছাড়া আপিল বিভাগে জামায়াত নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের করা আপিলের রায়টি অপেক্ষমাণ রয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় যুক্তিতর্ক শেষে গত ২৪ মার্চ নিজামীর মামলাটি রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের ১৩ নভেম্বর নিজামীর মামলার কার্যক্রম শেষে রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ রেখেছিলেন। বিচারপতি এ টি এম ফজলে কবীরের চাকরির বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় তিনি গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর অবসর নেন। সেই থেকে চেয়ারম্যানের পদটি শূন্য ছিল। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ২৪ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। কিন্তু ধার্য দিনে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারাকর্তৃপক্ষ নিজামীকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি। পরে স্বাস্থ্যগত প্রতিবেদন চেয়ে নিজামীর মামলার রায় ঘোষণা আবারো অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল। নিজামী সুস্থ এই মর্মে প্রতিবেদন আসার প্রায় চার মাস পর আজ রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, লুট, ধর্ষণ, উস্কানি ও সহায়তা, পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো রাষ্ট্রপক্ষের আনীত ১৬টি অভিযোগে বিচার হচ্ছে নিজামীর।
২০১২ সালের ২৮ মে নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৬টি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল-১ এ তার বিচার শুরু হয়। অভিযোগ গঠনকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে ১৬ নম্বর অভিযোগে বুদ্ধিজীবী হত্যা যোগ হয়েছে। ঐ বছরের ২৬ আগস্ট থেকে এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খানসহ এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন মোট ২৬ জন। আর নিজামীর পক্ষে তার ছেলে মো. নাজিবুর রহমানসহ মোট চারজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।