একটি বেসরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের শহরে চলাচলকারী ৪৭ দশমিক ৫ ভাগ নারী গণপরিবহন, রাস্তা কিংবা উন্মুক্ত জনবহুল এলাকায় চলাফেরা করার ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। এ নারীদের ৮৮ ভাগ পথচারী, পুরুষ-যাত্রী এবং অন্য ক্রেতাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হন। শহরের ৯৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানিকে সহিংসতা মনে করেন। ভুক্তভোগীদের অধিকাংশই মনে করেন হয়রানির প্রতিকারের জন্য পুলিশের সাহায্য চাইলে সমস্যা বাড়ে। এদের ৮১ শতাংশ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে সহায়তার জন্য যেতে চান না। যৌন সহিংসতা এড়াতে ৬৪ ভাগ নারী রাতে ঘরের বাইরে যান না। নিরাপত্তাহীনতার কারণে ৬০ ভাগ নারী রাতে ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে দলগতভাবে যেতে চান।
মঙ্গলবার রাজধানীর স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে “নারীর জন্য নিরাপদ নগরী” শীর্ষক প্রচার অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একই বিষয়ে জরিপের এই ফলাফল তুলে ধরে একশন এইড বাংলাদেশ। জরিপটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের ড. এম এ মান্নান এবং বদরুন্নেসা আহমেদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, নারীরা নগর জীবনে নিরাপত্তা অনুভব করেন না। জরিপে সেটিই ফুটে উঠেছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সঠিক নজরদারির ঘাটতি, সচেতনতার অভাব, আইন বা নীতির সঠিক বাস্তবায়ন হলে হয়তো এই পরিস্থিতির উন্নতি হতো। নারী নির্যাতনে পুলিশ সঠিক ভাবে কাজ করে না, এটা অনেকাংশে ঠিক। এজন্য পুলিশকে জেন্ডার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরশনের মেয়র সেলিনা হায়াত্ আইভি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি সরকারকে আমলে নিতে হবে।
বিশেষ অতিথি যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক সংসদীয় মন্ত্রী লিন ফেদারস্টোন বলেন, নারীরা নির্যাতন ও হয়রানীর শিকার হচ্ছে। সরকারকে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে। একইসঙ্গে তরুন সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে নির্যাতন প্রতিরোধে।
আয়োজকরা জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ শহরের মোট ১,২০০ নারী-পুরুষের উপর এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ৮০০ নারী ও কিশোরী, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে এবং ৪০০ পুরুষ রয়েছেন।