রূপপুর আণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের নিরাপত্তায় ‘কোর ক্যাচার’

সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার নব উদ্ভাবিত ও উন্নত ‘কোর ক্যাচার’ রূপপুর আণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ব্যবহূত হবে বলে বিদ্যুত্ কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক শওকত হোসেন জানিয়েছেন। আণবিক বিদ্যুত্ চুল্লি­র নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আণবিক শক্তি কর্পোরেশন রোসাটমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এটমএনার্গোপ্রোয়েক্ট উন্নত ধরনের এই কোর ক্যাচার উদ্ভাবন করেছে। সমপ্রতি তুরস্কের আণবিক শক্তি বিশেষজ্ঞদের সামনে এই নতুন কোর ক্যাচারটি উপস্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে। তীব্র মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল, সহজে স্থাপনযোগ্য ও অন্যান্য সুবিধা সম্বলিত নতুন কোর ক্যাচারটি রাশিয়া কর্তৃক নির্মিতব্য তুরস্কের আকুইউ আণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

 প্রকল্পে কর্মরত বিজ্ঞানী সূত্রে জানা যায়, গবেষণালব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে ডিজাইনকৃত নতুন কোর ক্যাচারটির অনেকগুলো সুবিধার মধ্যে একটি হলো—এটি স্থাপন করা সহজতর এবং স্থাপনের সময়ও প্রায় এক মাসের কম প্রয়োজন হবে। তার মতে, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল কোর ক্যাচারটির নিজস্ব শীতলিকরণ পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। এটি পূর্বের কোর ক্যাচারগুলোর তুলনায় ১৫ শতাংশ হালকা। রুশ প্রকৌশলীরাই সর্বপ্রথম এই কোর ক্যাচার উদ্ভাবন করেছেন। এটি আণবিক চুল্লি­র নিচে স্থাপিত একটি বিশেষ কন্টেইনার। যে কোন জরুরি অবস্থায় আণবিক চুল্লি­র তরল ও কঠিন অংশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটির ভিতরে এসে জমা হয় এবং সুরক্ষিত থাকে। এর ফলে চুল্লি­র কন্টেইনমেন্ট কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না এবং তেজস্ক্রিয়তাও বাইরে ছড়িয়ে পড়ার কোন সুযোগ থাকে না।

প্রথম কোর ক্যাচারগুলো ব্যবহূত হয় সমপ্রতি নির্মিত চীনের তিয়ান ওয়ান ও ভারতের কুদানকুলাম আণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পে। তুরস্কের আকুইউ আণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি এটমএনার্গোপ্রোয়েক্ট প্রণীত নকশা অনুযায়ী তৈরি হচ্ছে। এটিতে থার্ড প্লাস জেনারেশনের সর্বাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংবলিত আইএএস ২০০৬ মডেলের চুিল্ল­ ব্যবহূত হবে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বাংলাদেশের রূপপুরে বাস্তবায়নাধীন আণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রেও এই সর্বাধুনিক কোর ক্যাচারটি ব্যবহূত হবে।