বুধবার সকালে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে ইমরান খান (৩৭) নামে এক যুবককে জিম্মি করার উদ্দেশ্যে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়া হয় । ইমরান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, সকাল সাড়ে আটটার দিকে বনানীতে তার অফিসে যাওয়ার জন্য তিনি খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়েছিলেন। এমন সময় একটি মাইক্রোবাস এসে থামে তার সামনে। বনানীনে যাবেন কী না জানতে চান ড্রাইভার। আর কোন যাত্রী ওঠার আগে দ্রুত জায়গা নিতে ইমরান মাইক্রোবাসটিতে উঠে পড়েন। গাড়িটিতে আরও তিন যাত্রী বসা ছিল। ইমরানের বর্ণনা অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের শরীর স্বাস্থ্য ভালো। চুল ছোট করে কাটা। কথাবার্তা ও বসার ভঙ্গিতে চৌকস ভাব রয়েছে।
গাড়িটি খিলক্ষেত স্টপেজ ছেড়ে দেয়। শেওড়া স্টপেজ পার হওয়ার পর এক যাত্রী তার পকেট থেকে রিভলবার বের করে ইমরানের দিকে তাক করে ধরে। ইমরান বিপদে পড়েছেন বুঝতে পেরে তার কাছে যা আছে সব দিয়ে দিতে রাজি হন। অনুরোধ করেন, যেন তাকে প্রাণে মেরে ফেলা না হয়।
ইমরানের কথা শুনে তারা ইমরানকে আশ্বস্ত করেন, প্রাণে মেরে ফেলা হবে না। তবে, “গোডাউনে” আটকে রাখা হবে। তার আগে ইমরানকে তার পরিবারের লোকজনের কাছে ফোন করে দুই লাখ টাকা বিকাশ করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। ইমরান অনেক অনুনয় করে বলেন, তিনি সামান্য চাকরি করেন। তার পরিবারের পক্ষে দুই লাখ টাকা দেওয়া সম্ভব নয়।
তখন তারা ইমরানকে চলন্ত মাইক্রোবাসের ভেতরই মারধর করতে শুরু করে এবং বলে, “টাকা কিভাবে আদায় করতে হয় তা আমরা জানি। গোডাউনে গেলেই টাকা না দিয়ে পারবি না”। গাড়ি সামনের বাক থেকে ঘুরে বিমানবন্দরের দিকে চলতে শুরু করে।
ইমরান জিম্মি হতে যাচ্ছেন এবং তাতে তার জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়তে যাচ্ছে বুঝতে পেরে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ‘মরলে এখানেই মরবো, জিম্মি দশায় নয়’ সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি ধস্তাধস্তি এবং চিৎকার শুরু করেন। এ অবস্থায় গাড়ির সাদা কাঁচের কারনে রাস্তার পাশের মানুষেরা তাকে দেখতে পায়। তাদের কয়েকজন চিৎকার করে গাড়িটিকে আটকানোর কথা বলে। এ অবস্থায় ভয় পেয়ে ছিনতাইকারীরা মাইক্রোবাসটি থামায় লোটাস কামাল এবঙ কাওলার মাঝামাঝি স্থানে। ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় ইমরানকে। তার আগে ইমরানের কাছ থেকে কেড়ে নেয় সঙ্গে থাকা ১৬০০ টাকা, একটি স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-২ মডেলের একটি এবং মাইক্রোম্যাক্সের একটি মোবাইল ফোন।
ইমরান এ ব্যাপারে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।