গত বছরের মতো এবারও হরতালের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট ( জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার্থীরা। এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য অপেক্ষা থাকা প্রায় ২১ লাখ পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাও এই ফাঁদে পড়েছে।
আগামী ২ নভেম্বর থেকে সারাদেশে একযোগে জেএসসি ও জেডিস এ পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশের প্রতিবাদে বৃহস্পতি, রবি ও সোমবার দেশব্যাপী হরতাল ডেকেছে দলটি। ফলে ২ নভেম্বর রবিবার থেকে এ পরীক্ষা শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যদিও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পরীক্ষা পেছানো বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এবার সারাদেশে এ বছর ২০ লাখ ৯০ হাজার ছয়শ ৯২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। আগামী ২ নভেম্বর রবিবার সকাল ১০ টা থেকে জেএসসি ও জুনিয়র মাদ্রাসা র্সাটিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা।
জেএসসি-জেডিসিতে এবার মোট ২০ লাখ ৯০ হাজার ৬৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে জেএসসিতে ১৭ লাখ ৬৪ হাজার ৫৯৫ জন ও জেডিসিতে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৯৭ জন।
রবিবার জেএসসিতে বাংলা প্রথম পত্র এবং জেডিসিতে কুরআন মজিদ ও তাজবিদ পরীক্ষা হওয়ার সময়সূচি আগেই ঘোষণা হয়েছে।
৩ নভেম্বর সোমবার জেএসসিতে বাংলা দ্বিতীয়পত্র; জেডিসিতে আত -তাওহিদ ওয়ালফিকহ এবং আকাইদ ও ফিকাহ পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষা শুরুর দিন ও দ্বিতীয় দিন হরতালের কারণে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন শিক্ষা র্থীরা।
গত বছরও হরতালের কারণে তিন দিন পিছিয়ে শুরু হয় জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা। ৪ নভেম্বর পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয় ৭ নভেম্বর।
আগামী ২ ও ৩ নভেম্বর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েও বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর ডাকা হরতালের কারনে ৩ নভেম্বর সোমবার পর্যন্ত সকল পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। স্থগিত হওয়া এসব পরীক্ষার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে এবং অন্যান্য পরীক্ষার তারিখ অপরিবর্তীত থাকবে বলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
হরতালের কারণে বিপাকে পড়েছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি)২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষের ভর্তিচছু শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল ৩০ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ দিন। কিন্তু হরতালের কারনে ৩ দিনের পরিবর্তে ২ দিন অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথমবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবারের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর শুক্রবার শুরু হবে। শেষ হবে ১ নভেম্বর। ৩১ অক্টোবর শুক্রবার কলা ও মানবিক স্কুলের পরীক্ষা সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হবে। আর দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জীব বিজ্ঞান স্কুলের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হবে। ১ নভেম্বর শনিবার সকাল সাড়ে ৯ টায় ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসায় প্রশাসন স্কুল, দুপুর ১ টায় বিজ্ঞান, প্রকৌশলও প্রযু্ক্তবিদ্যা স্কুল এবং চারুকলা ইনস্টিটিউটের ভর্তি পরীক্ষা সাড়ে ৫টায় শুরু হবে। ভর্তি পরীক্ষার কেন্দ্র ও আসন বিন্যাস অপরিবর্তিত থাকবে ।
হরতালের কারণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষ অনার্স কোর্সে জি, ই ও বি২-বি৭ ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কমিটির সভাপতি উপাচার্য প্রফেসর মো. আনোয়রুল আজিম আরিফের সভাপত্বিতে বুধবার এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ‘জি’ ইউনিটের (ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ) ভর্তি পরীক্ষা ৩০ অক্টোবরের পরিবর্তে ৩১ অক্টোবর শুক্রবার, আইন অনুষদ ‘ই’ ইউনিটের পরীক্ষা ২ নভেম্বরের পরিবর্তে ৪ নভেম্বরস মঙ্গলবার এবং কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ‘বি২’ ও ‘বি৭’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা ৩ নভেম্বরের পরিবর্তে ৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া এ সব পরীক্ষার পূর্বে ঘোষিত কেন্দ্রগুলো ও সময় অপরিবর্তিত থাকবে বলেও জানান তিনি। পরীক্ষা সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যাদি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে (.িপঁ.ধপ.নফ) পাওয়া যাবে।