নির্বাচন যথাসময়েই হবে: প্রধানমন্ত্রী

 
 
 
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচন যথাসময়েই হবে। একটা নির্বাচনের পর আরেকটা নির্বাচন আসবে এটাই স্বাভাবিক। সংসদীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় যে কোন সময় নির্বাচন দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকার চাইলে যে কোন সময় নির্বাচন দিতে পারে। তবে সাংবিধান অনুযায়ী মেয়াদ পাঁচ বছর। এবার যে যার মতো যা বুঝতে চায়, বুঝে নিক। আমি তো বুঝিয়ে দিতে পারব না।
বৃহস্পতিবার বিকালে গণভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সংযুক্ত আরব আমিরত সফরের অর্জন ও সফলতা তুলে ধরতে এই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন  করা হয়। প্রধানমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
৫ জানুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য নির্বাচন করতে হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপিকে আনার জন্য আমরা সব ধরনের ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু তারা নির্বাচনে অংশ তো নেয়নি বরং নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করেছে। তারা দেশকে অস্বাভাবিক অবস্থায় ঠেলে দিতে চেয়েছিল। নির্বাচন না হলে কী হতো? ওয়ান ইলেভেনের ধাক্কা তো এর আগে সামলাতে হয়েছে।
মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্বেগ প্রকাশ করে দেয়া বিবৃতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করে তাদের মানবাধিকার নিয়ে ইইউ এতো উদ্বিগ্ন কেন? অথচ গাজায় যখন অসংখ্য নিরীহ নারী-শিশুসহ  শত শত ছাত্র-ছাত্রী, মা-বোন এমনকি অন্তসত্বা নারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো তখন তো তারা কোন উদ্বেগ প্রকাশ করেনি, বরং নিশ্চুপ ছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জানা উচিত যুদ্ধাপরাধীর বিচার হচ্ছে আমাদের দেশের আইনে। এ আইনটি আন্তর্জাতিক মানের।
তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার নতুন কিছু না। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধের বিচার এখনো চলছে কেন? কেন তারা বন্ধ করেনি?
তিনি বলেন, আর আমাদের দেশে যারা মানববতাবিরোধী অপরাধ করেছে, নারীদের ধর্ষণ করেছে, লুটপাট করেছে, অগ্মিসংযোগ করেছে। তাদের বিচার করছি। এখন তাদের মানববাধিকারের কথা শুনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস দমন করবো, জঙ্গিবাদ নিমুল করবো। আর এগুলো করতে হলে যুদ্ধাপরাধীর বিচারও করতে হবে। এ বিচার চলবেই।
প্রধানমন্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরত সফর ব্যর্থ হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন একজন সাংবাদিক এ প্রসঙ্গটি তুলে ধরলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সবকিছুতেই ব্যর্থ, তারাই অন্যের কাজের ব্যর্থতা খোঁজে। অবশ্য ব্যর্থতা খোঁজাই বিএনপির মজ্জাগত অভ্যাস। যারা জনগণের ভোট পাবে না জেনে নির্বাচনে অংশ নিতে ব্যর্থ হলো। আন্দোলনে ব্যর্থ হলো। যারা প্রতি পদে পদে ব্যর্থ তারা তো ব্যর্থতাই দেখবে।
তিনি বলেন, আমি দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাব। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করবো, তারপর আমার ছুটি। ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবো ইনশাল্লাহ।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।