একটি বাসে আগুন, ৮ ককটেল উদ্ধার, গ্রেফতার ৮

হরতালে রাজধানীর জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক

 
একাত্তরে মানবতা-বিরোধী অপরাধের দায়ে  মতিউর রহমান নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জামায়াতের ডাকা হরতালে জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাপাড়া রয়েছে সাধারণ কর্মদিবসের মতোই। তবে  হরতালের শুরুতে খুব ভোরে দু-একটি স্থানে ঝটিকা মিছিল করার চেষ্টা করলেও রাজপথ অনেকটাই ছিল স্বাভাবিক। তবে দুপুরের দিকে শ্যামপুর এলাকায় একটি পার্ককরা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় হরতাল সমর্থকরা। হরতাল চলাকালে পুলিশ মিরপুর ও লালবাগ থেকে ৮ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। লালবাগ থেকে র্যাব পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ৮টি হাতবোমা।
হরতাল ঘিরে রাজধানীতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নাশকতা এড়াতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন ছিল অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সদস্য।  কোথাও কোথাও  ছিল জলকামান মোতায়েন।
মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের প্রতিবাদে জামায়াত বৃহস্পতি, রবি, সোম— তিন দিনের হরতাল ঘোষণা দেয় বুধবার। আজ ছিল হরতালের প্রথম দিন।
ভোরে নগরীর বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, ফকিরাপুলসহ কয়েকটি এলাকায় হরতালের সমর্থনে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে জামায়াত-শিবির কর্মী। এ সময় তারা একটি বাস ও সিএনজি অটোরিকশায় ঢিল ছোড়ে। তবে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা পালিয়ে যায়। দুপুর আড়াইটার দিকে শ্যামপুরে রাস্তার পাশে বোরাক পরিবহনের যাত্রীশূন্য  একটি বাসে আগুন দেয় পিকেটাররা। ফায়ার ব্রিগেডের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।  কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অন্য দিকে, লালবাগের ছাপরা মসজিদ এলাকা দুই এবং পূর্ব মনিপুরের একটি মেস থেকে ৬ শিবির কর্মীকে গ্রেফতার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পেট্রল বোমা তৈরিরর সরঞ্জাম ও জিহাদি বই। অন্য দিকে, দুপুরের দিকে র্যাব-২-এর একটি টিম হাজারীবাগ এলাকায় উদ্ধার করে ৮টি ককটেল। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় পল্টন মোড়ে হরতাল সমর্থনকারীরা ৪টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।
রাজধানীতে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলছে স্বাভাবিকভাবেই। গাবতলী, মহাখালী ও সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূর পাল্লার বাস ছেড়ে না গেলেও ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী— ঢাকার আশপাশ এলাকায় বাস চলাচল করেছে। সদরঘাট থেকে সকাল থেকেই সব লঞ্চ সময়মতো ছেড়ে গেছে।  কমলাপুরে ট্রেন চলাচলও স্বাভাবিক ছিল।