পাবলিক লাইব্রেরীতে হেমন্তের বইমেলা শুরু

 
শুরু হলো ১০দিনব্যাপি হেমন্তের বইমেলা। হরতালের মধ্যেই সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে বিরাজ করলো আনন্দময় পরিবেশ। বইয়ের গন্ধে ভরে উঠেছিল বইমেলা প্রাঙ্গণ। গোটা আঙিনাজুড়ে ছিল গ্রন্থানুরাগীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও সরব উপস্থিতি। স্টলে স্টলে ঘুরে তাঁরা সংগ্রহ করেছেন পছন্দের বইটি। বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির শাহবাগ শাখা আয়োজিত ২৬টি প্রকাশনা সংস্থার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত মেলাটি প্রথম দিনেই হয়ে ওঠে জমজমাট।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে সূচনা হয় হেমন্তের বইমেলার।
উদ্বোধনী আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জিল্লুর রহমান।
স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বইমেলা আয়োজক পর্ষদের সদস্য সচিব খান মাহবুব। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তব্য রাখেন পর্ষদের আহ্বায়ক ফয়সল আরেফিন দীপন। শুভেচ্ছা  বক্তব্য দেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বইমেলা এখন একটি আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে পাঠকের হাতে সুলভে পৌঁছে দেওয়া যায় তাঁর পছন্দের বইটি। সব মিলিয়ে বইমেলা এখন এদেশের সংস্কৃতিরই একটি অনিবার্য অংশে পরিণত হয়েছে। আর ঋতুভিত্তিক এ ধরনের গ্রন্থমেলার মাধ্যমে পাঠকের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ ঘটে প্রকাশকের। এছাড়াও বক্তব্যে তিনি প্রকাশকদের দাবি অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে প্রকাশনা ও মুদ্রণশিল্প বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্তের কথা জানান।
রকমারি নানা গ্রন্থের সমাবেশ ঘটেছে হেমন্তের বইমেলায়। গণগ্রন্থাগারের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে সারি বেঁধে সজ্জিত স্টলগুলোয় ঠাঁই পেয়েছে গল্প-উপন্যাস, কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, ভ্রমণকাহিনী, আত্মজীবনী, সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নানা বিষয়ের বই। এ মেলায় ৩০ শতাংশ মূল্যছাড়ে বই সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন পাঠকরা।
এ মেলায় অংশ নিয়েছে অন্বেষা, অ্যাডর্ন, ঐতিহ্য, কথাপ্রকাশ, গদ্যপদ্য, জয়তী, জাগৃতি, তাম্রলিপি, রোদেলা, নওরোজ কিতাবিস্তান, পলল, পার্ল, পাঠক সমাবেশ, প্রগতি, প্রিয়মুখ, প্রতিভা প্রকাশ, বর্ষ দুপুর, বিশ্বসাহিত্য ভবন, মাওলা ব্রাদার্স, মুক্তদেশ, মুক্তচিন্তা, শুদ্ধস্বর, শ্রাবণ, সুবর্ণ, হাওলাদার প্রমুখ।
বইমেলা চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আর সরকারি ছুটির দিনে খুলবে সকাল ১১টায়।