বাংলাদেশি জিহাদিদের সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই

আসামের প্রধান বিরোধী দল অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এআইইউডিএফ) জানিয়েছে,  বাংলাদেশি জিহাদিদের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। গত বুধবার দলটির প্রেসিডেন্ট মাওলানা বদরুদ্দিন আজমল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তার দলের বাংলাদেশি জিহাদিদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে গণমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তা সর্বৈব মিথ্যা। সমপ্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, এআইইউডিএফ এবং জামিয়াত উলেমা-ই-হিন্দ মিলে আসামের যুবকদের বাংলাদেশে জিহাদি প্রশিক্ষণের জন্য পাঠাচ্ছে। খবর দ্য হিন্দু’র।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা আজমল জানান, দিল্লি ভিত্তিক একটি বেসরকারি টেলিভিশনে গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের কোনো স্বাক্ষর নেই এবং কোনো  মন্ত্রণালয়েরও বক্তব্য নেই। ফলে এই সংবাদের সতত্য নিয়ে প্রশ্ন আছে। তিনি সংবাদের সত্যতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সংবাদের সত্যতা প্রমাণ করতে না পারলে টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। ওই চ্যানেলটিতে সংবাদ প্রকাশের পরই অন্য গণমাধ্যমে একই বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। মাওলানা আজমল বলেন, এই ধরনের সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে কেবল দলেরই ক্ষতি করা হচ্ছে না, তার পরিবারও ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। উল্লেখ্য, আজমলের পরিবার গত ছয় দশক ধরে প্রসাধনী সামগ্রীর ব্যবসা করে আসছে এবং এসব সামগ্রী বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, এর মধ্যে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এই ঘটনার সত্যতা প্রমাণের দাবি করে আজমল বলেন, প্রমাণিত হলে তিনি যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেবেন। আসামের ১২৬ সংসদ সদস্যের বিধানসভায় এআইইউডিএফের ১৮ জন সংসদ সদস্য আছেন। সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর আসামের ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি), বজরং দল এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ বিভিন্ন দল সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে এআইইউডিএফের প্রধান এবং দলের শাস্তি দাবি করে সভা-সমাবেশ করে।