বাংলাদেশের বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের খবর বিশ্বজুড়ে

বাংলাদেশে গতকাল শনিবার যে ভয়াবহ বিদ্যুত্ বিপর্যয় হয় তার খবর পৌছে গেছে সারা বিশ্বে। এশিয়া ছাড়াও ইউরোপ-আমেরিকার বিশ্ববিখ্যাত অনেক গণমাধ্যম এই খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করে। এছাড়া বিশ্বের প্রধান প্রধান বার্তা সংস্থাগুলোও খবরটি অন্যতম শীর্ষ খবর হিসেবে পরিবেশন করে।

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, নিউইয়র্ক টাইমস, এবিসি নিউজ, ব্রিটেনের বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, মিরর, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি মর্নিং হেরাল্ড, ভারতের টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস, জি নিউজসহ সারা বিশ্বের অগণিত গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কালের এই ভয়াবহ বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের খবর প্রকাশিত হয়। অনেক টিভি চ্যানেলেও খবরটি গুরুত্বসহকারে প্রচার করে।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরের শিরোনাম ছিল, ‘ভারত-বাংলাদেশের বিদ্যুত্ সংযোগস্থলে কারিগরি ত্রুটির পর গোটা বাংলাদেশ বিদ্যুিবহীন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এমনিতেই বিদ্যুত্ সংকটে থাকা বাংলাদেশের প্রায় সব জেলা বিদ্যুিবহীন হয়ে পড়ে জাতীয় গ্রিডে ত্রুটির কারণে। এই ঘটনার পর প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা দিনভর পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যান। রিপোর্টে বলা হয়, ২০১৩ সালের অক্টোবর থেকে ভেড়ামারার মধ্য দিয়ে একটি ৪০০ কেভি ট্রান্সমিশন লাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে বিদ্যুত্ আমদানি করছে বাংলাদেশ । সেই ভেড়ামারা থেকেই ত্রুটির উত্পত্তি হয়েছিল শনিবার। এতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে ২০০৭ সালের পর এটাই সবচে বড় বিদ্যুত্ বিপর্যয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসির খবরে বলা হয়, কেন ভেড়ামারা গ্রিডে বিপর্যয় হলো তার সঠিক কারণ জানা যায়নি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রায় সবাই শনিবার বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের শিকার হয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া লেখে, বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো জেনারেটরের সাহায্যে কাজ চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এটি ব্যয়বহুল পদ্ধতি হওয়ায় অনেকে দু’য়েক ঘন্টা পর জেনারেটর বন্ধ করে দেয়। এয়ারপোর্ট, রেলস্টেশন ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের কাজকর্ম চালিয়ে যেতে কর্তৃপক্ষ জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হয়।

উল্লেখ্য, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে ইউরোপ-আমেরিকাসহ সারা বিশ্বেই বিদ্যুত্ বিপর্যয়ের নজির আছে। তবে অন্যতম ভয়াবহ গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল ২০০৭ সালের ২৩ জুলাই স্পেনে। ৭৮ ঘন্টা পর সারা দেশে বিদ্যুত্ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। ২০১১ সালের ৩০ জুন একই কারণে ভারতের চেন্নাই ১৫ ঘন্টার বেশি বিদ্যুিবহীন ছিল। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে একটি গ্রিডে ধারাবাহিক বিপর্যয়ের কারণে একসাথে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রায় সাড়ে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যুিবহীন হয়ে পড়ে। ১৫ ঘন্টার মধ্যে বেশিরভাগ স্থানে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুই দিন লেগে যায়।