স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিত্সকদের নিজ-নিজ কর্মস্থলে থেকে চিকিত্সা দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কাজে ফাঁকি দিলে কোনো চিকিত্সককে ছাড় দেয়া হবে না। নিষ্ঠার সাথে মানুষের সেবা করতে হবে। হাসপাতালে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ পেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৪০ জন চিকিত্সকের যোগদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গত ৭ সেপ্টেম্বর ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে ৬ হাজার ৮৯ চিকিত্সক যোগদান করেন। অনিবার্য কারণে যোগদান করতে না পারা ১৪০ জন আজ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানপত্র জমা দেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন চিকিত্সকদের নিজ-নিজ উপজেলায় পদায়ন দেয়া হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত এবারই প্রথম নেয়া হয়েছে। নিজ-নিজ জেলা বা উপজেলার মানুষের সেবা করার সুযোগ পাওয়ায় জনগণও আশা করে চিকিত্সকরা তাদের সর্বোচ্চ সেবা দেবে। তিনি বলেন, নতুন চিকিত্সকদের দুই বছর কর্মস্থলে থাকতেই হবে। এর আগে বদলির কোনো চেষ্টা মেনে নেয়া হবে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, যেকোনো পিতামাতা তার সন্তানকে চিকিত্সক হিসেবে গড়ে তুলতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেন। সেই পিতৃ ও মাতৃতুল্য জনগণকে আন্তরিক সেবা দেয়াই একজন চিকিত্সকের ধর্ম হওয়া উচিত।
যে সব ইউনিয়নে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিত্সকদের অবকাঠামোগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সে সব জায়গায় দ্রুত সমস্যার সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক জায়গায় নতুন চিকিত্সকদের বসার জন্য হয়তো চেয়ার-টেবিল নেই। সরকার দ্রুত এর ব্যবস্থা করবে। চিকিত্সকদের এ ধরনের অসুবিধা দূর করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যদের অনুরোধ করা হয়েছে। সংসদ সদস্যরা অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সমস্যা উপলব্ধি করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করা যায়— শিগগিরই সব চিকিত্সক চিকিত্সা সেবা দেওয়ার সুষ্ঠু পরিবেশ পাবেন।
স্বাস্থ্য সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।