রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামির ডাকা তিন দিনের হরতালের দ্বিতীয় দিন তেমন সাড়া মেলেনি। পাশাপাশি দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানেও ছিল একই চিত্র। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে অন্যান্য দিনের মতোই যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।
জামায়াতের ডাকা রবিবার হরতালে রাজধানীর রাজপথে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের দেখা যায়নি। হরতালের প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে ফুলবাড়িয়া বাসটার্মিনালে সমাবেশ করে। সভাবেশ শেষে ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক খন্দকার এনায়েত উল্ল্যাহ, সদস্য সচিব ওসমান আলী, ইসমাইল হোসেন বাচ্চু নেতৃত্বে হরতাল মিছিল বের করে। অপর দিকে, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন মিছিল বের করে।
অন্যান্য দিনের মতো রাজধানীর পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব সচিবালয় সড়ক ও গুলিস্তান এলাকায় যানজট লক্ষ্য করা গেছে। তবে প্রাইভেটকারের সংখ্যা ছিল কম। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। কোথাও-কোথাও স্কুল-কলেজও খোলা ছিল। ট্রেন, লঞ্চ ও বিমান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ঢাকা ও আশপাশ জেলাগুলোতে বাস চলাচল করেছে। তবে গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ থেকে দূরপাল্লাগামী কয়েকটি কিছু সংখ্যক বাস ছেড়ে ছেড়ে গেছে। হরতালে নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এই হরতালে লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। রাজধানী থেকে দূরপাল্লার বাসও চলাচল করে। এ সময় সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম ছিল স্বাভাবিক।
রাজধানীর সায়দাবাদ বাসটার্মিনাল ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, বাস-লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য দিনের তুলনায় কম ছিল।
মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতা-বিরোধী অপরাধ করার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল বুধবার জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত এবং রবিবার ভোর ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত তিন দিনের হরতাল আহ্বান করে।