ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং একমাত্র সীমান্ত ক্রসিং ওয়াগাহতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে কমপক্ষে ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। জুনদুল্লাহ এবং জামায়াত-উল-আহরার নামে তেহরিক-ই-তালেবানের দুটি শাখা এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। খবর বিবিসি, ডন এবং এনডিটিভি’র।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর পতাকা নামানোর ঐতিহ্যবাহী কুচকাওয়াজ শেষ হওয়ার পরপরই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওয়াগাহের এই সীমান্ত ক্রসিংয়ে প্রতিদিনই সন্ধ্যার আগে ভারত আর পাকিস্তানের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে একটি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হয়। এই অনুষ্ঠান দেখতে পর্যটকসহ অনেক মানুষ ভিড় করেন। এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সীমান্ত ক্রসিং থেকে ৫শ’ মিটার দূরে পাকিস্তানের দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। পাকিস্তান পাঞ্জাবের পুলিশ প্রধান জেনারেল মুসতাক সুখেরা জানিয়েছেন, এটি আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং হামলাকারীর বয়স ১৮ বছর হতে পারে। জেনারেল মুসতাক সুখেরা বলেন, বিস্ফোরণে সীমান্তরক্ষা বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের তিনজন সদস্যও নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকরাই বেশি। একই পরিবারের আটজন রয়েছে নিহতদের মধ্যে। আহতদের স্থানীয় ঘুর্কি হাসপাতাল, সার্ভিসেস হাসপাতাল এবং শালিমার হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। ঘুর্কি হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিন্টেন্ডেন্ট জানিয়েছেন, এই হাসপাতালে ৪৮ জনের মৃতদেহ আনা হয়েছে। পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, বিস্ফোরণে আশেপাশের অনেক স্থাপনা উড়ে গেছে। অন্তত ২৫-৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক ব্যবহূত হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। মুসতাক সুখেরা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা ওয়াগাহ সীমান্তে হামলা করতে পারে, এরকম গোয়েন্দা তথ্য তাদের কাছে ছিল। সে জন্য সেখানে নিরাপত্তার কড়াকড়িও ছিল। তিনি বলছেন, আত্মঘাতী হামলাকারীরা যে কুচকাওয়াজস্থল পর্যন্ত যেতে পারেনি, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই কড়াকড়ির কারণেই। ভারতের অমৃতসর এবং পাকিস্তানের লাহোরে আসা-যাওয়া করার একমাত্র ক্রসিং এই ওয়াগাহ সীমান্ত।
এই ঘটনার পর ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। সন্ধ্যার পর দুদিক থেকেই সীমান্তের গেটটি বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে আজ সোমবার এটি নিয়মমাফিক খুলে দেয়া হবে কি না, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান। তেহরিক-ই-তালেবান ইন পাকিস্তানের (টিটিপি) নতুন জঙ্গি গ্রুপ জামায়াত-উল-আহরার মুখপাত্র এহসানউল্লাহ এহসান বলেন, তাদের এক সদস্য এই আত্মঘাতী হামলাটি চালিয়েছে। এর আগে টিটিপি’র স্পিলিন্টার গ্রুপ বলে পরিচিত জুনদুল্লাহর মুখপাত্র টেলিফোনে এই হামলার দায় স্বীকার করে বলেন, জারব-ই-আজব এবং ওয়াজিরিস্থানে সেনা অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।