বুরকিনা ফাসোর ওপর নিষেধাজ্ঞার হুশিয়াঁরি জাতিসংঘের

 
বেসামরিক প্রশাসনের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দিলে বুরকিনা ফাসোর ওপর  নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুশিয়াঁর করেছে জাতিসংঘ। পশ্চিম আফ্রিকায় জাতিসংঘের দূত মোহামেদ ইবনে চ্যাম্বাস রবিবার বুরকিনা ফ্রাসোর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠকে  এই হুশিয়াঁরী করেন। তিনি বলেন
বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা না ছাড়লে আমাদের কি করতে হবে তা আমাদের কাছে  স্পষ্ট। 
 
২৭ বছর ধরে বুরকিনা ফ্রাসোর ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ব্লেইজ কমপাওর বিরুদ্ধে প্রবল গণ আন্দোলনের ফলে দেশটি অস্থিতিশিল হয়ে পড়ে। এই সুযোগে ক্ষমতা নিয়ে নেয় সামরিক বাহিনী ।
 
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট বুরকিনা ফাসোর সামরিক সরকারকে  অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সামরিক বাহিনীকে বেসামরিক নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার  অনুরোধ জানিয়েছে। রবিবার স্থলবেষ্টিত দেশটির ওপর নিয়ন্ত্রণ
জোরদার করার পর একটি ঐকমত্যের সরকার গঠনের ঘোষণা দেয় সামরিক শাসক। সেনারা রবিবার
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে একজন নিহত হয়। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে দুর্ঘটনাবশত একজনের শরীরে গুলি লাগে। হত্যার উদেশ্যে গুলি চালায়নি সেনারা।
 
সরকার বিরোধীরা জানিয়েছে এক সপ্তাহের বিক্ষোভে সেদেশে ৩০ জন নিহত হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলো এএফপিকে জানিয়েছে সেখানে অন্তত ৬ বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে, যাদের দু’জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।
 
২৭ বছর ক্ষমতায় থাকার পর আরো অধিককাল ক্ষমতায় থাকার জন্য সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ব্লেইস। তীব্র আন্দোলনের মুখে গত শুক্রবার কার্যত ক্ষমতা হারান তিনি।
 
সামরিক বাহিনী অন্তর্বর্তীকালিন সরকার পরিচালনার জন্য লেফটেন্যান্ট কর্ণেল ইসাক জিডাকে মনোনিত করেন। কিন্তু রবিবার বেসামরিক কর্তৃপক্ষের হাতে ক্ষমতা ছাড়ার জন্য আন্দোলন শুরু করে জনগণ। খবর আলজাজিরা