রমনা বোমা হামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বকর গ্রেফতার

 
 
 
 
 
রমনা বটমূল বোমা হামলা মামলায় ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা আবু বকর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার গ্রেফতার হয়েছেন। র্যাব-১০-এর একটি দল বুধবার রাতে তাকে কেরানীগঞ্জের একটি বাড়ি থেকে  গ্রেফতার করে। তাকে বৃহস্পতিবার রমনা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, আবু বকর সিদ্দিক ২১ আগস্ট মামলারও চার্জশিটভুক্ত আসামি। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নানের সহযোগীে। ঘটনার পর থেকে আসল পরিচয় গোপন করে সেলিম হাওলাদার নামের কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
২০০১ সালে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে জঙ্গি বোমা হামলায় ১০ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চলতি বছর ২৩ জুন মুফতি হান্নান, আবু বকরসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনের যাজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।
আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার ওরফে হাফেজ সেলিম হায়দারের গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলার চর আবদানী।
র্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে আবু বকর সিদ্দিক জানান, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার গওহর ডাঙ্গা হাফিজিয়া মাদ্রাসায়  পড়াকালে পরিচয় ও সক্ষ গড়ে ওঠে মুফতি হান্নানের সঙ্গে। এরপর তিনি হরকাতুল জিহাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে  রমনা বটমূলে বোমা হামলা এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালান।
রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর আবু হেনা মো. ইউসুফ জানান, মুফতি হান্নানের অন্যতম সহযোগী আবু বকর সিদ্দিক কখনো গ্রেফতার হননি। বেশ কয়েক বার তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালালেও তিনি বারবার তার অবস্থান পরিবর্তন করেন। রমনা বটমূলে বোমা হামলায় আবু বকর সিদ্দিকসহ মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত অপর সাতজন হচ্ছেন— মুফতি হান্নান, মাওলানা আকবর ওরফে হেলাল উদ্দিন, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা তাজউদ্দিন ও আরিফ হাসান সুমন। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ডাদেশ এবং ফাঁসিরদণ্ডাদেশ দেয় আদালত।