‘পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম অভিযান’

পুলিশের শেষ, রাজনীতিক আইনজীবীদের শুরু

কাজটা শুরু করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র  মোদী। ভারতকে পরিচ্ছন্ন দেশে পরিণত করার অভিযানে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে নিজেই ঝাড়ু হাতে রাজপথে নেমে পড়েন তিনি। মোদীর প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে পরবর্তীতে অমিতাভ বচ্চনসহ ভারতের অনেক রথী-মহারথীকেই ‘পরিচ্ছন্ন ভারত’ অভিযানে নামতে দেখা গেছে। ভারতের কাছের প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে সরকারি পর্যায়ে কাউকে পরিচ্ছন্ন অভিযান নিয়ে মাথা ঘামাতে দেখা যায়নি।
তবে চট্টগ্রামে সদ্য যোগ দেয়া মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. আবদুল জলিল মন্ডল ছিলেন ব্যতিক্রম। গত ২৪ অক্টোবর থেকে তার উদ্যোগে নগরীতে শুরু হয় ‘পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম অভিযান’। নগরীর দামপাড়া, কাজীর দেউড়ি, নাসিরাবাদসহ কয়েকটি এলাকায় কয়েকশ পুলিশ নিয়ে তিনি পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করেন। তবে গতকাল শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এই পরিচ্ছন্ন অভিযান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। এসময় তিনি বলেছেন, ‘পুলিশ এখন থেকে নিজে আর কোনো পরিচ্ছন্ন অভিযান পরিচালনা করবে না। তবে কারো বাসার সামনে ময়লা-আবর্জনা দেখলে পুলিশ ওই বাসার দরজায় কড়া নাড়বে। বাসার মালিক যত প্রভাবশালী হোক না কেনো তাকে পুলিশ ময়লা পরিষ্কার করার জন্য অনুরোধ করবে।’
এদিকে পুলিশ কমিশনার পরিচ্ছন্ন অভিযানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করলেও এ কাজে এগিয়ে এসেছে মহানগর আওয়ামী লীগ। তাদের পাশে থাকবে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলররা। গতকাল শুক্রবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আজ শনিবার চট্টগ্রাম আদালত ভবন পরিষ্কর-পরিচ্ছন্ন করার মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সূচনা হবে। আওয়ামী লীগের এই পরিচ্ছন্ন অভিযান আগামী তিনদিন ধরে চলবে বলে জানা গেছে।
সভায় মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দিন, সহ-সভাপতি এডভোকেট সুনীল কুমার সরকার, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্যানেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা হল ঈমানের অঙ্গ। তাই সকলের উচিত স্ব-দায়িত্বে নিজেকে এবং তার চারপাশকে পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।