সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিত্সা হচ্ছে: নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, স্বাস্থ্য সেবা খাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অনেক এগিয়ে গেছে। আর এটা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মস্তিষ্কপ্রসূত কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিক ব্যবস্থার সুবিধা ভোগ করছে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূল পর্যায়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য সম্প্রতি সাড়ে ৬ হাজার তরুণ চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই নিয়োগ শুধু নয়, নিয়োগকৃত চিকিত্সকদের পদায়নের ক্ষেত্রে কোন তদবির পর্যন্ত লাগেনি। এমনকি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশে এখন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নতমানের চিকিত্সা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ফেডারেশন অফ এশিয়া-ওসানিয়া পেরিনেটাল সোসাইটির দ্বি-বার্ষিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে স্বাগতিক বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান, ফিলিপাইন, পাকিস্তান, তাইওয়ানসহ ১০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন।
স্বাস্থ্য খাত নিয়ে টিআইবি’র প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হিসেবে উল্লেখ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কোন সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়াই এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশে যখন চিকিত্সা সেবার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নতি সাধিত হচ্ছে, শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার কমছে ঠিক তখন এই খাত নিয়ে দুর্নীতির ঢালাও অভিযোগ এনে টিআইবি’র রিপোর্ট প্রণয়নের নেপথ্যে অসত্ উদ্দেশ্য রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কিছু অনিয়ম-দুর্নীতি থাকতেই পারে। রাতারাতি তা দূর করা সম্ভব নয়। তবে সরকার বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে যে কোন অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে বদ্ধপরিকর। ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কয়েকজন অদক্ষ চিকিত্সককে অপসারণ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এমআর খান, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হাসান, অধ্যাপক ডা. শহিদুুল্লাহ, ডা. লায়লা আরজুমান্দ বানু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।    
তারেকের কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যে বিএনপিও বিব্রত
সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ‘জাতীয় জেলহত্যা দিবস ও চলমান রাজনীতি’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মোহাম্মদ নাসিম বলেন, একজন পলাতক দুর্নীতিবাজ দেশের বাইরে থেকে বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ কথা বলছে। সেগুলো ?মুখে আনতেও বাধে। এ সমস্ত পলাতক কাপুরুষদের বক্তব্যের কারণে দেশে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদেরও ক্ষতি হচ্ছে। তার কথায় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও বিব্রত হচ্ছেন। কারাগারে জাতীয় চারনেতার হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন আমৃত্যু তারা বঙ্গবন্ধুর অনুসারী ছিলেন। তিনি বলেন, একদিকে ভয়ভীতি, অন্যদিকে ক্ষমতার লোভ-লালসা। জাতীয় চার নেতা মৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন, লোভের কাছে মাথা নত করেননি। শেখ হাসিনার সরকার জেলহত্যার বিচার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্রের কারণে জেলহত্যার বিচারটি পূর্ণাঙ্গভাবে করা যায়নি। অনেক হত্যাকারী রক্ষা পেয়ে গেছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, তথাকথিত ৭ নভেম্বরকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। আমি মনে করি, এটা বাঙালি জাতির জীবনে একটা হত্যা দিবস-সিপাহি হত্যা দিবস। সিপাহি হত্যার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে হত্যার জন্য যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, ৭ নভেম্বরে এসে সেটা পূর্ণতা পেয়েছে। গণতন্ত্র হত্যার জন্য সেদিন অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছিল।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন চিত্র নায়ক ফারুক। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।