দীর্ঘ ক্যাবল কার, কৃত্রিম হ্রদ নজর কাড়ছে পর্যটকদের

কাপ্তাই-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে দেশের একমাত্র ‘শেখ রাসেল এভিয়ারী ইকো পার্ক’। পার্কের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ ও দৃষ্টিনন্দন এই ইকো পার্কে অসংখ্য প্রজাতির গাছ-গাছড়ার পাশাপাশি রয়েছে হরেক রকমের পাখ-পাখালী। এই পার্কের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এখানে স্থাপিত ক্যাবল কারের দৈর্ঘ্য বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। আসা-যাওয়া মিলিয়ে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই ক্যাবল কার বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। অচিরেই পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এই ক্যাবল কার উদ্বোধন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এই ইকো পার্কের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ। পাহাড় ও সমতল মিলিয়ে ২১০ হেক্টর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এই ইকো পার্ক। এখানে একটি আকর্ষণীয় কৃত্রিম হ্রদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, হ্রদের নির্মল পানিতে ভবিষ্যতে ভেসে বেড়াবে দুর্লভ প্রজাতির বিভিন্ন প্রকারের হাঁস। আর হ্রদের উপর প্রতিষ্ঠিত দ্বীপে থাকবে আকর্ষণীয় কুলিং কর্ণার। হ্রদ ও কুলিং কর্ণারের উপর দিয়েই বসানো হয়েছে ক্যাবল কার। এই ক্যাবল কারের আকর্ষণেই এখানে ছুটে আসছেন পর্যটকরা। গত বছরের ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ইকো পার্কের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বলে জানান চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের ডিএফও বিপুল দাশ।
ফি নিয়ে আপত্তি: ইকো পার্কের নির্মাণ কাজ এখন পর্যন্ত সমাপ্ত না হলেও উদ্বোধনের পর থেকেই বিপুল সংখ্যক পর্যটক এখানে আসছেন। তবে প্রধান ফটকের সামনে ঝুলানো প্রবেশ ফি ও অন্যান্য ফি’র তালিকা দেখে পর্যটকদের হোঁচট খেতে হচ্ছে। ইকো পার্কে প্রবেশ ফি জনপ্রতি ২৩ টাকা। এই হার পর্যটকদের মোটেই পছন্দ নয়। টিকেট কাউন্টারে বসা লোকজনও এই হারকে সঠিক মনে করেন না। এটা অনেক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। অনেক পর্যটক ২০ টাকার বেশি দিতে রাজি হন না। পার্কে ভ্রমণে আসা চট্টগ্রাম মহসিন কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রবেশ ফি ২৩ টাকা কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আরো কমানো প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তা  মো. ইকবাল হোসেন জানান, ক্যাবল কার বা রোপ ওয়েতে চড়ার ফিও গ্রহণযোগ্য নয়। একজন পর্যটককে ক্যাবল কারে উঠতে ৩৪৫ টাকা দিতে হবে। এই টাকাও অনেক বেশি বলে পর্যটকরা মনে করেন। এছাড়া জনপ্রতি সাড়ে ১১ টাকা দিয়ে পাখি দর্শন করতে হচ্ছে। কৃত্রিম হ্রদে প্রতি ঘন্টা বোটিং করতে দিতে হচ্ছে ৫৭ টাকা ৫০ পয়সা। এক টাকা ও ভাংতি পয়সার প্রচলন না থাকায় এ ক্ষেত্রেও পর্যটকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইকো পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তপন কান্তি দাশ বলেন, সরকারি ভাবে এই ফি ঠিক করা হয়েছে। এতে আমাদের কিছু করণীয় নেই। তবে ভাংতি পয়সার কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন।