আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ের অনুলিপি কারাগারে না পৌঁছানো পর্যন্ত মানবতাবিরোধী অপরাধী জামায়াত নেতা এম কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হবে না। তিনি বলেন, সরকার আইনের প্রতিটি ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন করছে। কামারুজ্জামানের বিচারের ক্ষেত্রে একই ধারা অব্যাহত ছিল এবং রায় কার্যকরের ক্ষেত্রেও তা থাকবে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ভূমি রেজিস্ট্রেশন ম্যানুয়াল-২০১৪ প্রকাশনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে কামারুজ্জামানের ফাঁসির এ রায় পেয়েছি। তাই রায় কার্যকর করতেও আইনের কোন ব্যত্যয় ঘটানো হবে না। আইনের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হবে। জেল কোড নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। তবে অন্তত পক্ষে সংক্ষিপ্ত আদেশটা কারাগারে না গেলে রায় কার্যকর করা ঠিক হবে না বলেই আমি মনে করি। তিনি বলেন, আপিল বিভাগ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল রেখেছে। এখন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বা সংক্ষিপ্ত রায়ের কপি প্রথমে ট্রাইব্যুনালে যাবে। ট্রাইব্যুনাল আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সেই রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবেন। এরপর কারা কর্তৃপক্ষ কামারুজ্জামানকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবেন। এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আজকেও খোঁজ নিয়েছি কামারুজ্জামানকে আনুষ্ঠানিকভাবে কারা কর্তৃপক্ষ প্রাণভিক্ষার বিষয়ে কিছু জিজ্ঞেস করেনি।
এদিকে গতকাল সকালে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে যোগদান শেষে আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে কামারুজ্জামানের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময়সীমা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রেখেছে সর্বোচ্চ আদালত। কারাবিধির ৯৯১ ধারা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারিক আদালতের দেয়া মৃত্যুদণ্ড উচ্চ আদালত বহাল রাখলে সর্বশেষ এ রায়টি আসামিকে অবহিত করতে হয়। আর এই অবহিত করার বিষয়টি কাগজপত্রে জানাতে হবে তা নয়। অবহিত করা হয়েছে কিনা সেটিই বড় বিষয়। অবহিত হওয়ার পর ওই আসামি প্রাণভিক্ষার জন্য সাত দিন সময় পান। এটা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।