মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদিত বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪-এ বিয়ের বয়স কমানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশ প্রদানের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও বিষ্ময় প্রকাশ করেছে (৬৮টি নারী ও মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের প্ল্যাটফরম) সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৪ এ মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ রাখার দাবি জানিয়েছে কমিটি। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে গত ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে বিয়ের বয়স না কমানোর দাবি জানিয়ে যে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়, তা পাঠ করে শোনান বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহানাজ সুমী।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়— ২০১৪ সালে যখন পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে নারীর সম-অধিকার, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা তথা নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে সর্বমুখী কর্মকাণ্ড রাষ্ট্র, সরকার, নারী আন্দোলন, নাগরিক সমাজ তথা সমগ্র জাতির পক্ষ থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। যখন ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনায় ( জাতীয়-বৈশ্বিক) নারীর ক্ষমতায়ন, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, নারী-পুরুষের সমতা, নারীর মানবাধিকার ও নারীর প্রতি সহিংসতা নির্মূলকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার প্রত্যয় নিয়ে জাতিসংঘ ও সদস্য রাষ্ট্রসমূহ কাজ শুরু করেছে— সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে অন্যতম অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তখন মন্ত্রী পরিষদে এ ধরনের নতুন করে বাল্যবিবাহের বয়স সম্পর্কে যে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তা আমাদের বিস্মিত, হতবাক ও উদ্বিগ্ন করেছে। চার দশকের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশের নারী, মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠন, জাতিসংঘ স্বাস্থ্য সংস্থা, চিকিত্সক সমাজ, গবেষক— সবার অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্বজনীনভাবে এটাই দেখা গিয়েছে যে, ১৮-এর কম বয়সী নারী মাতৃত্ব গ্রহণ, সন্তান জন্ম দানের জন্য যথাযথ উপযুক্ত হয়ে ওঠে না। শিশু বয়সে সন্তান জন্মদান, সে সব শিশু কন্যাদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্যঝুঁকি, মাতৃমৃত্যু সংখ্যা বৃদ্ধিসহ তাদের জীবনব্যাপী ক্ষতিকর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি তৈরি হয়, যা তার ভবিষ্যত্ জীবনকে আরো দুর্বিসহ করে তোলে। তারা কেবল প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেই পড়ে না, এর ফলে তাদের জীবনে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়। অপরিণত বয়সে অপুষ্ট শিশুর জন্মদান পুষ্টিহীন ভবিষ্যত্ প্রজন্ম ও মাতৃত্ব ঝুঁকির পরিবেশ তৈরি করবে। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কন্যা শিশুরা আরো ব্যাপক হারে বাদ পড়বে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝড়ে পড়ার হার বৃদ্ধি পাবে। ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে, নারী নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের ভবিষ্যত্ অর্থনীতি ও সামাজিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে চরম নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার। সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন, বাউশি, ঢাকা ওয়াইডাব্লিউসিএ, নাগরিক উদ্যোগ, নারী মৈত্রী, আরডি আরএসসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।