টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আহলে হাদিসের সাবেক সভাপতি মোজাফফর বিন মহসিনকে দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে আদালত। রবিবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, মহসিনের নির্দেশে তার সহযোগীরাই ফারুকীকে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, ফারুকী হত্যার কয়েকদিন আগে ফেইসবুকে তার বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর অভিযোগে শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে মহসিনকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ গতকাল রবিবার মহসিনকে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেন। অপর দিকে মহসিনের আইনজীবী মো. আবদুল মতিন তার জামিনের আবেদন করেন । শুনানি শেষে মহানগর হাকিম তারেক মইনুল ইসলাম ভূইয়া জামিন নাকচ করে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মহসিনের নির্দেশে তার সহযোগীরাই বাসয় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে ফারুকীকে হত্যা করে। পিস টেলিভিশনের ইসলামী অনুষ্ঠানের বক্তা এবং আহলে হদিসের সাবেক সভাপতি মহসিনের ফারুকীর আদর্শগত বিরোধ ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই হত্যায় সংশ্লিষ্ট বাকিদের সন্ধান পাওয়া যাবে। অন্যদিকে মহসিনকে তিন দিন আগে আটক করা হয়েছে দাবি করে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন তার আইনজীবী আবদুল মতিন। তিনি আদালতকে বলেন ‘পুলিশকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে বলেন। আপনি আল্লাহর দোয়া পাবেন।’
এদিকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, মাওলানা ফারুকী খুন হওয়ার কয়েকদিন আগে মহসিন ফেইসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করেন, যাতে বলা হয়, ফারুকী ‘শিরক করছেন’। এর প্রতিবাদে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানানো হয় সেখানে। তিনি আরো জানান, মোজাফফর বিন মহসিন (৪০) সমপ্রতি উগ্রধর্মীয় সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের হয়ে কাজ করছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ফারুকী ইসলামী ফ্রন্টের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতেরও কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। আর এই সংগঠনটির সঙ্গে আহলে হাদিসের মতাদর্শগত ‘চরম দ্বন্দ্ব’ রয়েছে।
নুরুল ইসলাম ফারুকীকে গত ২৭ অগাস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। তার পরিবারের দাবি, সুন্নিবাদী এই নেতাকে হত্যার পেছনে কোনও উগ্রপন্থি সংগঠন জড়িত।
হত্যার রাতেই ফারুকীর ছেলে ফয়সাল ফারুকী অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামিদের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা করেন। পরে ইসলামী ফ্রন্টের অনুসারী ইসলামী ছাত্রসেনার ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার আরেকটি মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে দুটি মামলার তদন্তই একসঙ্গে করছে পুলিশ।