‘চীন, সিঙ্গাপুর ও জার্মানিতেও চলছে পদ্মা সেতুর কাজ’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু এখন দৃশ্যমান বাস্তবতা। এখন আর এটা কোনো স্বপ্ন নয়। সেতু বাস্তবায়নের পথে দ্রুত সব কাজ এগিয়ে চলছে। শুধু দেশেই নয় পদ্মা সেতুর কাজ এখন চীন, সিঙ্গাপুর ও জার্মানীতেও চলছে। এসব দেশে নির্মিত অংশগুলো জাহাজে করে এনে মাওয়ায় স্থাপন করা হবে।’

রবিবার দুপুরে এক আকস্মিক সফরে মাওয়ায় উপস্থিত হন মন্ত্রী। প্রটোকল বিহীন স্বাধীনভাবে মন্ত্রী দুপুর একটা থেকে প্রায় এক ঘন্টা পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন ও খুঁটিনাটি খোঁজ খবর নেন। পরিদর্শন শেষে ইত্তেফাককে প্রতিনিধিকে তিনি এসব তথ্য জানান। পরে বিকাল তিনটায় ঢাকায় ফেরেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, টেকনিশিয়ানসহ সেতু তৈরীতে দক্ষ শতাধিক চীনা নাগরিক পদ্মা মাওয়া সেতুর কাজে ব্যস্ত রয়েছে। মাটি পরীক্ষার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সিডিউল অনুযায়ী চলছে সব। নদী শাসনের চুক্তিও হচ্ছে সোমবার।

সবকিছু মিলিয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সর্ববৃহত এই সেতু চলাচলের উপযোগী হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেতু নিমার্ণের স্বার্থে মাওয়া ঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তর হচ্ছে। শিমুলিয়া ঘাট চূড়ান্ত পর্যায়ে। আগামী মাসে ঘাটটি  স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।’
 
সেতু পরিদর্শনে এসে সাধারণ মানুষের মতোই খোলামেলা পরিবেশে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের মাটি পরীক্ষার কাজ ঘুরে দেখেন ওবায়দুল কাদের। তিনি মাওয়া ঘাট এবং নতুন শিমুলিয়া ঘাটও পরিদর্শন করেন। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নব নির্মিত শিমুলিয়া ফেরি ঘাটের সংযোগ সড়ক নির্মাণ চূড়ান্ত পর্যায়ে। এই সড়কটিও মন্ত্রী ঘুরে দেখেন।

লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জেল হোসেন জানান, মন্ত্রীর আকষ্মিক এই পরিদর্শনকালে তার সাথে সরকারের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না এবং কোনো প্রটোকল নেননি। এমনকি মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাও ছিলেন না। তার আগমনের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন অবগত ছিল না।

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানান, সেতু মন্ত্রী আগমনের বিষয়টি ছিল একবারেই আকস্মিক। তাই অনেকেই জেনেছেন মন্ত্রী চলে যাওয়ার পর।