সংসদের হাতে বিচারপতি অপসারণ ক্ষমতা উচ্চ আদালতে চ্যালেঞ্জ

সংসদের হাতে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী চ্যালেঞ্জ হয়েছে হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবীর দায়ের করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই সংশোধনী কেন অবৈধ, বাতিল ও সংবিধান পরিপন্থী  বলে ঘোষণা করা হবে না—এই মর্মে গতকাল রবিবার রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচার-পতি মো. আশরাফুল কামালের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। একইসঙ্গে এই রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানির জন্য অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করা হবে কিনা সে বিষয়ে আগামী ২৬ নভেম্বরে আদেশ দেবে হাইকোর্ট।

আবেদনের শুনানিতে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কোন আইনে যখন কোন ত্রুটি চিহ্নিত হয় তখনই তা বাতিলের প্রশ্ন আসে। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল সংক্রান্ত সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ নিয়ে কেউই কোন প্রশ্ন তোলেননি। সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করলেও ৯৬ অনুচ্ছেদকে সুরক্ষা দিয়েছিলো। তিনি বলেন, বিগত কিছু দিনে হাইকোর্ট আদালত অবমাননা আইন অবৈধ ঘোষণা করেছে, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় র্যাব কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, জনস্বার্থে আরও বেশ কিছু আদেশ দিয়েছে। এ কারণে প্রশাসনের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর আয়ো-জন করেছে। মনজিল মোরসেদ বলেন, বেশিরভাগ রিটের ক্ষেত্রেই কোন না কোনভাবে সংসদ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট থাকেন। এখন বিচারপতিদের অপ-সারণের ক্ষমতা যদি সংসদ সদস্যদের হাতে থাকে তাহলে আদালত ন্যায় বিচার করতে পারবেন না। এ সংশোধনী কার্যকর হলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। জনগণ ন্যায় বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি বলেন, এই সংশোধনী বিচার বিভাগের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপের শামিল।
রিট আবেদনের বিরোধিতা করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, ষোড়শ সংশোধনী পাস হলেও জাজেস ইনকোয়ারি অ্যাক্ট এখনো প্রণয়ন হয়নি। ইনকোয়ারি অ্যাক্ট প্রণয়ন হলেই এই সংশোধনী কার্যকর রূপ লাভ করবে। অ্যাক্ট না হওয়া পর্যন্ত এই রিট আবেদন অপরিপক্ক। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আমরা কোন অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দিচ্ছি না, শুধু রুল জারি করছি। রুল শুনানিতে বিস্তারিত শুনব। এরপর আদালত রুল জারি করে। আদেশের পর রিট আবেদনকারীর আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রুল শুনানিকালে অ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দেয়ার জন্য আদালতের কাছে মৌখিকভাবে আবেদন জানান। আদালত বলেন, রুল শুনানিকালে বিষয়টি আমরা দেখব। 
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে প্রণীত মূল সংবিধানে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের কাছে ছিল। ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে অর্পণ করা হয়। পরে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা দেয়া হয় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের কাছে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সংসদের কাছে ফিরিয়ে নিতে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আনা হয়। বিলটি পাসের পর গত ২২ সেপ্টেম্বর তা গেজেট আকারে প্রকাশ পায়। দেশের শীর্ষ আইনজীবীরা এবং সংসদের বাইরের বিরোধী দলগুলো এ সংশোধনী প্রত্যাখ্যান করে। সংবিধানের এ সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবী হাইকোর্টে এই রিট আবেদন করেন। আবেদনকারীরা হলেন আসাদুজ্জামান সিদ্দিকী, ইমরুল কাউছার, মামুন আলিম, একলাছউদ্দিন ভূইয়া, মো. ছারওয়ার আহাদ চৌধুরী, মাহবুবুল ইসলাম, নুরুল ইমাম বাবুল, সৈয়দা শাহীন আরা লাইলী, রিপন বাড়ৈই।