বার্লিন প্রাচীর পতনের উত্সবে সামিল লাখ লাখ মানুষ

বার্লিনের বুক চিরে ২৮ বছর জার্মানিকে বিভাজিত করে রেখেছিল সেই দেয়াল, সেই একই রেখায় আট হাজার শান্তির সাদা বেলুন উড়িয়ে ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণকে স্মরণ করছে জার্মানি।  ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর বার্লিন প্রাচীরের পতনের মধ্যে দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানির পুনর্মিলন ঘটে, যা আজ স্নায়ুযুদ্ধের অবসানেরও প্রতীক। তারই রজতজয়ন্তী উদযাপনে গতকাল রবিবার বার্লিনে জড়ো হন অন্তত ১০ লাখ মানুষ। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
দিনটি উপলক্ষে ব্রানডেনবুর্গ গেইটে এক উন্মুক্ত সমাবেশে অংশ নেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল। তার মতে, ২৫ বছর আগে শান্তিপূর্ণ বিপ্লবে বার্লিন প্রাচীরের পতন ছিল এক ‘অলৌকিক’ ঘটনা।   বার্লিন প্রাচীরের পতনের রজতজয়ন্তীতে তিন দিন ধরে চলছে উত্সব। বোর্নহোলমার স্ট্রাসে (স্ট্রিট) থেকে ব্রানডেনবুর্গ গেইট, চেকপয়েন্ট চার্লি হয়ে ইস্ট সাইড গ্যালারি পর্যন্ত যে রেখায় এক সময় বার্লিন প্রাচীর দাঁড়িয়েছিল, সেই ১৫ কিলোমিটার পথ ধরে জ্বালানো হয় আট হাজার হিলিয়াম বেলুন। এসব বেলুন উড়ে গিয়ে মনে করিয়ে দেবে, সেই দেয়াল এখন অস্তিত্বহীন।
কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির জনগণের পালিয়ে পশ্চিমে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে ১৯৬১ সালে নির্মাণ করা হয় ১৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বার্লিন প্রাচীর। পাঁচ মিটার উঁচু আর পাঁচ ফুট চওড়া সেই দেয়ালের কোথাও কোথাও কাঁটাতারও ছিল। বিভাজনের সেই ২৮ বছরে দেয়াল ডিঙাতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ১২৫ জন, এর মধ্যে ৩০ জনের মৃত্যু হয় বার্লিনেই।  পূর্বের মানুষের পুনর্মিলনের আকুতি ১৯৮৯ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মান ঐক্যের আন্দোলনের রূপ নেয়। ৪ নভেম্বর আলেকজান্ডারপ্লােস জড়ো হন কয়েক লাখ বিক্ষোভকারী। কয়েক দিনের টানা বিক্ষোভের পর ৯ নভেম্বর পূর্বের সরকার পশ্চিমে যাওয়ার পথ খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ঘোষণা আসে, এখন থেকে সবার চলাচলের স্বাধীনতা থাকবে। আর সেই ঘোষণায় জার্মানিজুড়ে আনন্দের ঢল নামে; পূর্বের হাজার হাজার জনতার চাপে পতন ঘটে বার্লিন প্রাচীরের। মিলনকে তরান্বিত করতে হাতুড়ি-শাবল নিয়ে এগিয়ে যায় পশ্চিমের মানুষ। এর এক বছরের মাথায় আবারো একীভূত হয় দুই জার্মানি।  সেই প্রাচীরের তিন কিলোমিটার এখনো অবশিষ্ট আছে।