‘আমাদের দেশে চলচ্চিত্র মানুষের কাছে এসেছে মূলধারার মাধ্যমেই’

 দেশের প্রথিতযশা চলচ্চিত্রকার মতিন রহমান। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র পরিচালনায় না থাকলেও চলচ্চিত্রের এই মানুষটি সর্বদা আছেন চলচ্চিত্র নিয়েই। বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিভাগে শিক্ষকতা করছেন তিনি। তার ব্যস্ততা, দেশের চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থা ও চলচ্চিত্র সমালোচনা নিয়ে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সাথে।
দীর্ঘদিন কোন চলচ্চিত্র পরিচালনা করছেন না। কারণ কি?
২০০৮ সালে আমার পরিচালিত সর্বশেষ চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। আমি আসলে এখন একটি গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত আছি। পাশাপাশি বাংলা ছবি দেখছি, চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশুনা করছি। স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগে শিক্ষকতা করছি। বাংলাদেশে এই ইউনিভার্সিটিতেই সর্বপ্রথম ফিল্ম এন্ড মিডিয়া বিভাগ চালু হয়। এবং এই বিভাগের শুরু থেকেই আমি আছি। আবার কবে চলচ্চিত্র পরিচালনা করব তা এখন বলতে পারছি না। আশা করছি আমার গবেষণা শেষ হলে আবার চলচ্চিত্র পরিচালনা করব।
 
এখন হিন্দি-তামিল ছবির অনুকরণে ছবি হচ্ছে। এ ধারার চলচ্চিত্র সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।
আমি অনুকরণ নয় অনুসরণে বিশ্বাসী। এসব ছবির অনুকরণে যে ছবিগুলো হচ্ছে তা আমাদের চলচ্চিত্রের জন্য কতটা উপকারি তা ভেবে দেখতে হবে। হিন্দি-তামিল ছবিগুলোতে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় সে ধরণের প্রযুক্তি আমাদের এখানে ব্যবহূত হয় না। এজন্য অনেক সময় সঠিকভাবে চিত্রায়ণ সম্ভব হয় না। আমি নিজেও ছবি নির্মাণ করেছি। এক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, আমাদের সময় এসব হিন্দি-তামিল ছবিগুলো আমাদের দেশের দর্শকদের কাছে সেভাবে পৌঁছাত না। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে এসব ছবির সাথে আমাদের দর্শকরা এখন পরিচিত। সেজন্য কোন কাজটি আমরা করতে যাচ্ছি তা ভেবে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
 
আমাদের দেশের সমালোচকরা মূলধারার ছবিগুলোর প্রতি অনাগ্রহী কেন?
এটা আসলেই দুঃখজনক ব্যাপার। তবে সত্যি কথা বলতে কি আপনি যে ধারার কথাই বলেন না কেন আমাদের দেশে চলচ্চিত্র মানুষের কাছে এসেছে মূলধারার মাধ্যমেই। ভিন্নধারা, সকল্পধারা বা অন্য সকল ধারার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি মূলধারার চলচ্চিত্রগুলোকেও আপনার সমান গুরত্ব দিতে হবে।
 
দেশের তরুণ নির্মাতাদের কাজকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তরুণেরা অনেকেই ভাল করছে। আমি বিশেষ কারো নাম বলব না। তারা ভাল কাজ করছে। পাশাপাশি এমন কিছু নির্মাতা চলচ্চিত্র নির্মাণ করছে যারা চলচ্চিত্রের ভাষা সম্পর্কেই অবগত নয়। এখন ডিজিটালে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। অনেকের কাছেই তাই মনে হয় চলচ্চিত্র নির্মাণ অনেক সহজ। তবে বাস্তবতা হচ্ছে চলচ্চিত্র নির্মাণ মোটেও সহজ হয়ে যায়নি। চলচ্চিত্রের একটা নিজস্ব ভাষা আছে। এ ভাষাটাই আপনি না বুঝলে চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন কিভাবে? আদৌ সেগুলো চলচ্চিত্র হচ্ছে কিনা সে প্রশ্নও থেকে যায়। পাশাপাশি কিছু নির্মাতা আছে যারা ছোটপর্দায় কিছু কাজ করে চলচ্চিত্র নির্মাণে আসেন। তাদের বোঝা উচিত যে টেলিভিশন আর চলচ্চিত্রের ভাষায় পার্থক্য রয়েছে।
 
দেশের কিছু জাতীয় দৈনিকের বিনোদন সংবাদে দেশিয় শিল্পীদের অবহেলা করা হয়। এ প্রসঙ্গে আপনার মতামত জানতে চাই।
হ্যাঁ, দীর্ঘদিন ধরে এটা চলে আসছে। দেশের শীর্ষ সারির কিছু জাতীয় দৈনিকে এটা হয়ে আসছে যা খুবই দুঃখজনক। এক্ষেত্রে আমি দৈনিক ইত্তেফাককে ব্যতিক্রম বলব। এজন্য দৈনিক ইত্তেফাককে আমি ধন্যবাদ জানাব। ইত্তেফাক বরাবরই দেশিয় চেতনার পক্ষে কাজ করে আসছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম বরাবরই ইত্তেফাকের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। দেশের চলচ্চিত্রেও দৈনিকটির অবদান অনেক। এজন্য অবশ্য দায়টাও বেড়ে গেছে। আর যেসব দৈনিক দেশিয় সংবাদকে অবহেলা করে বিদেশি নিয়েই পরে থাকে তাদের হয়তো বিদেশ প্রীতিটাই বেশি কাজ করে।
 
চলচ্চিত্রের বর্তমান অবস্থাকে কিভাবে দেখছেন?
আগেই বলেছি অনেক নির্মাতাই ভাল কাজ করছেন। আমি আশাবাদী দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থার আরও উন্নতি ঘটবে। আমি দীর্ঘদিন চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছি এখন চলচ্চিত্রের শিক্ষকতা করছি। চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশুনা করেছি এবং এখনো করছি। চলচ্চিত্রে ভাল কিছুর জন্য নির্মাতাদের চলচ্চিত্রের ভাষাটা জানাও আবশ্যক। চলচ্চিত্রের ভাষা না জানলে তার সঠিক ব্যবহার সম্ভব নয়।
সাক্ষাতকার : দিব্যজ্যোতি দত্ত