জব্বার সরাসরি হত্যায় জড়িত : ২১তম সাক্ষি


ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল জব্বারের নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২২ মে ১১ জনকে হত্যা করে রাজাকার বাহিনী। জব্বার নিজে গুলি করে সাখানাথ খরাতীকে গুলি করে হত্যা করে।
জব্বারের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের ২১তম সাক্ষি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার নলী গ্রামের কেশব চন্দ্র বিশ্বাস (৬৬) সোমবার তার সাক্ষ্যে এ কথা বলেন। এ সাক্ষিকে জেরা করেন এ মামলায় রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান। কাল ২২ তম সাক্ষির সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে বিচারিক প্যানেল এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
২১ তম সাক্ষি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জব্বার ইঞ্জিনিয়ার মঠবাড়িয়া থানায় শান্তি কমিটি গঠন করেন। তিনি নিজে থানা কমিটির সভাপতি হন। শান্তি কমিটি গঠনের পর জব্বারের নির্দেশে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এ সাক্ষি বলেন, ৭১’মে জব্বারের নেতৃত্বে রাজাকাররা তাদের নলী আক্রমন করে। জব্বার নিজেসহ অন্য রাজাকাররা ওই দিন ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করে। অনেক বাড়ীঘরে লুটপাট চালানো হয়। সাক্ষি বলেন, ওই দিন আমরা গ্রামের অনেকে রাজাকারদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই এবং সাক্ষি নিজেও ওইদিন আহত হন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। ওই দিন যাদের হত্যা করা হয় তাদের মধ্যে রয়েছেন-নিশিকান্ত বিশ্বাস, সুরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, উপেন্দ্র মিস্ত্রি, জিতেন্দ বিশ্বাস, গনেষ মিস্ত্রি, উপেন্দ নাথ বিশ্বাস, বসন্ত হালদার, বলরাম মিস্ত্রি, ষষ্ঠী হালদার।
মঠবাড়িায়র সাবেক সংসদ সদস্য ও জাাতীয় পার্টির নেতা জব্বারের বিরুদ্ধে গত ১৪ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। ৭ সেপ্টেম্বর সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনশেষে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ৮ জুলাই ট্রাইব্যুনালের এক আদেশে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জব্বারকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও হাজির হননি জব্বার। এ জন্য তাকে পলাতক ঘোষণা করা হলো। আইনজীবী আবুল হাসানকে মামলায় পলাতক আসামি পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য রাস্ট্র নিযুক্ত (স্ট্যাট ডিফেন্স) আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। গত ১২ মে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনীত পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে গ্রেফতারে পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে হত্যা, গণহত্যা, ধর্মান্তকরণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ।