‘মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চাই’

 
 
মানুষের মতো বেঁচে থাকার অধিকার চেয়েছেন সমাজের ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিজড়ারা। তারা বলেছেন,  ‘হিজড়ারাও মানুষ! অথচ রাষ্ট্রের কোথাও স্থান নেই আমাদের। পৃথিবীতে আপন বলে কেউ নেই। কেউ আমাদের ভালো চোখে দেখে না। অনেক লাঞ্ছনা-বঞ্চনা সয়েছি। এবার সুযোগ চাই। আমরাও মানুষের মতো বেঁচে থাকতে চাই। সম্মান চাই, অধিকার চাই। আমরা ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ হিসেবে নিজেদের স্বীকৃতি চাই।’
সোমবার রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এক পরামর্শক সভায় হিজড়ারা এভাবেই তাদের জীবনের দুঃখ-দুদর্শার কথাগুলো বলেন। হিজড়াদের তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে সরকার গেজেট নোটিফিকেশনে স্বীকৃতি দেওয়ার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত ২ নভেম্বর থেকে সারাদেশে ‘হিজড়া প্রাইড কর্মসূচি ও পরামর্শক’ সভার আয়োজন করে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি (বিএসডব্লিউএস)। তারই অংশ হিসেবে সোমবার ঢাকায় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পালিত হয়।
অনুষ্ঠানে কয়েকজন হিজড়া একে একে তাদের দূর্বিসহ জীবনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন বৈষম্য আর বঞ্চনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃস্টি হয়।
ববি বলেন, ‘অত্যাচার সইতে না পেরে দুইবার আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলাম। খেলতে গেলে না পুরুষ না নারী স্বভাবের কারণে ছেলে-মেয়ে কেউ খেলতে নিতো না। সবাই হাসি ঠাট্টা করতো। বাড়িতে এসব বললে বাবা-মা-ভাই সবাই আমাকেই মারতেন। বলতেন, ‘তোরই দোষ, আচরণ পাল্টাস না কেন’? একদিকে বাড়িতে অন্যায়-অত্যাচার, লাঞ্ছনা-বঞ্চনা, অন্যদিকে সমাজের তিরস্কার চলতো প্রতিনিয়ত। এভাবে আর কতোদিন বাঁচা যায়! আমরা কাজ করে যেন দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারি, সেই সুযোগ চাই। সুনাগরিক হতে চাই। মানুষের মতো বাঁচতে চাই।
রাজশাহী থেকে পরামর্শক সভায় আসা সাগরিকা বলেন, হিজড়াদের প্রতি কারো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নেই। হিজড়ারা চাঁদাবাজি করেন বলে সবাই আমাদের দুর দুর করেন, কিন্তু আমরা কি খেয়ে কী ভাবে জীবন-ধারণ করছি তা কেউ দেখেন না। তিনি মিডিয়ার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা ভালো করে খোঁজ নিয়ে দেখুন, আমরা কিভাবে বেঁচে আছি।
বরিশাল থেকে আসা সোনালী বলেন, আমাদের সুযোগ দিন। মানুষের মতো বাঁচতে চাই। সম্মান দিন, অধিকার দিন। অনেক লাঞ্ছনা, বঞ্চনা সয়েছি। পৃথিবীতে আপন বলতে কেউ নেই। তিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরাও মানুষ, আমাদের মানুষের মতো বাঁচতে দিন।