শিল্পকলায় জামদানির বহুমাত্রিক পণ্য প্রদর্শনী শুরু

 
 
 
ব্লু আর অফহোয়াইটের অপূর্ব কম্বিনেশনে জামদানির পর্দা করেছেন তাঁতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর। এমন সুন্দর কাজের পণ্য দুই মাসের মধ্যে করা অসাধ্যকেই সাধন করেছেন দিন-রাত কাজ করে। তার সাথে কাজ করেছেন তাঁতি আবুল কাশেম, দেলোয়ার হোসেনসহ ২০ জন দক্ষ তাঁতি। তার ডিজাইন অনুযায়ী গড়েছেন ল্যাম্পশেড, ব্যাগ, কুসন কাভার, বেডসেট, ডিভাইডারসহ ডাইনিং টেবিলের ম্যাটসেট। আর এ সব পণ্যই করা হয়েছে জামদানির বহুমাত্রিক ব্যবহারকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিপ্রায় থেকে। মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায় শুরু হয় তিন দিনের জামদানি বহুমাত্রিক উদ্ভাবিত পণ্যের মেলা। মেলা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সচিব মনজুর হোসেন, কোরিয়া ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের প্রতিনিধি জিওং, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, রুবী গজনবী প্রমুূখ।
বক্তারা অতি অল্প সময়ের মধ্যে জামদানির বহুমাত্রিক উপস্থাপনের ভুয়সি প্রশংসা করেন। তারা বলেন, তাঁতির দক্ষতার সাথে ফ্যশন ডিজাইনার নান্দনিকতার মিশেলে জামদানি রূপ নিয়েচে গৃহসামগ্রী, পার্স, ব্যাগ, দেয়ালের সৌন্দর্যবর্ধকে। আর্ন্্তজাতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত বাংলাদেশের জামদানিকে আরো বেশি প্রসারিত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করার তাগিদ ছিল ইউনেস্কো ইন্টেনজেবল মিটিংয়ে। সে মিটিংয়ে আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান দেয়া হয় জামদানিকে। এরই ধারাবাহিকতায় জামদানিকে নিয়ে নানা রকমের গবেষণা প্রয়োজন বোধ করেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিজ্ঞজনরা। জামদানি শিল্পী, ফ্যাশন ডিজাইনার, গবেষক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলকে নিয়ে কিভাবে গ্রহণযোগ্যভাবে জামদানির বহুমাত্রিব উদ্ভাবন করা যায়, তার ওপরে এক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন। সে কর্মশালায় দেশের স্বনামধন্য তিনটি ফ্যাশন হাউস আড়ং, কুমুদীনী, অঞ্জনস এবং ২০ জন অভিজ্ঞ ও গুণি শিল্পী নিয়ে ৫৫ দিনের মধ্যে জামদানির বহুমাত্রিক পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রসার বৃদ্ধির কার্যক্রম শুরু হয়। সেভগার্ডিং জামদানি দি ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ ফরম বাংলাদেশ অ্যান্ড প্রোমোটিং ক্রিয়েটিভ ইকোনোমি শীর্ষক প্রকল্পের অংশ হিসেবে প্রটেকশন অব জামদানি থ্রো ইটস মাল্টিপল ইউজ অ্যান্ড সেভগার্ডিং দি আর্টিস্ট অ্যান্ড দ্য কমিউনিটি শীর্ষক প্রজেক্ট বাস্তবায়নের জন্য ১৭ হাজান ৫০০ মার্কিন ডলার দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। বিজ্ঞজনরা বহুমাত্রিক পণ্যের প্রশংসা করলেও দামের বিষয়টি এরিয়ে যেতে পারেননি। তবে তারা বলেন, জামদানি রাজা-বাদশার জিনিস, তাই দাম বেশিই হবে। এক্সক্লুসিভ হবে এর ব্যবহার। বিশ্ববাজার সৃষ্টি করতে পারলে প্রসারিত হবে জামদানি শিল্প ও শিল্পীরা। বেঁচে থাকবে জামদানি শিল্প শত শত বছর।
প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টার পর্যন্ত সবাই দেখতে পাবেন।