‘ফরমালডিহাইড মিটারে’ নির্ভুল ফরমালিন মাপা যায় না

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ব্যবহূত ‘ফরমালডিহাইড মিটার জেড-৩০০’ নামক যন্ত্র দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ও ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ভুলভাবে মাপা যায় না বলে মত দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই)। আদালতের নির্দেশে সাতটি মৌসুমী ফলের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে হাইকোর্টে এ প্রতিবেদন দাখিল করে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, এই অবস্থায় উল্লেখিত যন্ত্রটি খাদ্যদ্রব্য ও ফলে ফরমালিনের উপস্থিতি নির্ভুলভাবে নির্ণয়ের উপযোগী নয় বলে মনে হয়।
বিএসটিআই’র পরিচালক (রসায়ন) মো. আখতারুজ্জামান ও পরীক্ষক (ফুড অ্যান্ড ব্যাক্ট) মো. রাশেদুল ইসলামসহ মোট চার কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশ শিল্প ও বিজ্ঞান গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এক প্রতিবেদনে বলেছে, ‘ফরমালডিহাইড মিটার জেড-৩০০ নামক যন্ত্রটি ফল, মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণের জন্য তৈরি করা হয়নি। তবে এটি বাতাসে ক্ষতিকর কেমিক্যাল (রাসায়নিক) আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে পারে।
প্রসঙ্গত খাদ্যদ্রব্যে ফরমালিনের উপস্থিতি যাচাই করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) ফরমালডিহাইড মিটার নামক যন্ত্রটি ব্যবহার করে। প্রকৃতপক্ষে এই যন্ত্রটি ফরমালিন পরীক্ষায় ব্যবহূত হয় কিনা তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাধন চন্দ্র দাশ ও সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম। এই রিটের ওপর শুনানি নিয়ে গত ২১ জুলাই বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. হাবিবুল গণির ডিভিশন বেঞ্চ যন্ত্রটি পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিসিএসআইআর, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ফুড সেফটি ল্যাবরেটরির পরিচালককে নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশে যন্ত্রটি পরীক্ষা করে গতকাল হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করে বিএসটিআই।
রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, এখন এই দু’টি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনের বিষয়টি আদালতের নজরে আনা।
বিএসটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিএমপির ব্যবহূত ‘জেড ৩০০’ মডেলের ‘ফরমালডিহাইড মিটার’ দিয়ে বাজার থেকে সংগৃহীত আপেল, আঙ্গুর, কমলা, খেজুর, কলা, আম ও মাল্টা পরীক্ষায় তারা ফরমালিনের উপস্থিতি পেয়েছেন। একই ফলে বিএসটিআই ল্যাবের নিজস্ব পদ্ধতি অনুসরণ করে কেবল আমে ফরমালিন পাওয়া গেছে। ট্রেসার ইলেকট্রম লিমিটেড থেকে সংগৃহীত একটি যন্ত্র দিয়ে একই ফল পরীক্ষা করেও ভিন্ন ফলাফল পেয়েছে বিএসটিআই। এর মধ্যে ডিএমপির যন্ত্রটি কমলায় দশমিক ২১ এবং মাল্টায় দশমিক শূন্য ৪ মাত্রার ফরমালিন দেখালেও ট্রেসারের যন্ত্রটি উভয় ফলে শূন্য মাত্রার ফরমালিনের উপস্থিতি দেখায়। এছাড়া আম, আপেল, আঙ্গুর ও খেজুরে ট্রেসারের যন্ত্রে বেশি ফরমালিন দেখিয়েছে। ডিএমপির যন্ত্র কলায় বেশি ফরমালিনের উপস্থিতি দেখিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বিএসটিআই’র নিজস্ব ল্যাবে পরীক্ষা করে ফরমালিনমুক্ত আপেল আঙ্গুর ও মাল্টায় ৫ শতাংশ এসিটোন এবং ১০ শতাংশ চিনির দ্রবণে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে শুকানো হয়। এরপর ঐ দু’টি যন্ত্র দিয়ে ফরমালিন পরীক্ষা করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিন্ন ফলাফল পাওয়া যায়। একইভাবে ফরমালিনমুক্ত ফল ২ শতাংশ ফরমালডিহাইড দ্রবণে ভিজিয়ে রেখে এরপর শুকিয়ে দুইটি যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলেও ভিন্ন ফল পাওয়া যায়।