ধূমকেতুতে মহাশূন্যযানের সফল অবতরণ

 
 
সফলভাবে কমেট ৬৭পি ধূমকেতুতে অবতরণ করেছে ‘রোসেট্ট’। শেষ মুহূর্তে, অবতরণের জন্য অনেকগুলো প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কাজ না করলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়িয়ে সফলতা পেয়েছে ইউরোপিয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পাঠানো যানটি।
মিশনটির ল্যান্ডার ম্যানেজার স্টিফেন উলমেক বৃহস্পতিবার জানান, অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত মহাকাশযান ‘রোসেট্টা’ কমেট ৬৭পি ধূমকেতুটিতে সফলভাবে অবতরণ করেছে। এটাই প্রথমবারের মতো ধূমকেতুতে মানবসৃষ্ট কোনো যানে সুনিয়ন্ত্রিত অবতরণ।
তিনি আরও জানান, ধূমকেতুটিতে নামার সময় যানটি তিন বার লাফিয়ে ওঠে।
মাধ্যাকর্ষণ কম থাকার কারনে এই সমস্যাটির কথা বিজ্ঞানীরা আগেই ভেবেছিলেন। সমস্যাটি সমাধান করার জন্য তিনটি হার্পুন ও নাইট্রোজেন থ্রাস্টার ব্যবহার করার পরিকল্পন ছিল। যানটি ল্যান্ড করার সময় ধূমকেতুটিতে ধাক্কা লেগে লাফিয়ে আবার যেন মহাকাশে চলে না যায় সে জন্যই এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে নাইট্রোজেন থ্রাস্টারগুলো এবং হার্পুনগুলোবিকল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত এসব ছাড়াই সফলভাবে অবতরণে সক্ষম হল যানটি।
'রোসেট্টা' থেকে আমাদের সৌরমন্ডলের ইতিহাস সম্পর্কে অজানা তথ্য জানা যাবে বলে আশাবাদী বিজ্ঞানীরা । ধূমকেতুর গতিপ্রকৃতি ও আমাদের সৌরজগতের বিবর্তনে ধূমকেতুর ভূমিকা কি ছিল এসব তথ্যও জানা যাবে বলে জানিয়েছে ইউরোপিয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।
ধূমকেতুটিতে নামার জন্য বুধবার গ্রিনিচ মান সময় সকাল নয়টা ৫ মিনিটে মূলযান থেকে আলাদা হয়ে যায় অবতরণ যানটি। সে সময় মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটি জানায়, ওয়াশিং মেশিনের আকারের প্রায় ১০০ কেজি ওজনের অবতরণকারী যানটি সাত ঘণ্টা পর ধূমকেতুপৃষ্ঠে অবতরণ করবে।
গত ২ মার্চ ২০০৪ সালে মহাকাশযানটি কমেট ৬৭পি এর উদ্দেশ্যে পৃথিবী ছেড়ে যায়। ধূমকেতুটির নাগাল পেতে যানটি ইতিমধ্যে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছে। গত আগস্ট মাস থেকে ধূমকেতুটির কক্ষপথে যায়গা করে নেয় মহাকাশযানটি।
মিশনটিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার। খবর: বিবিসির